Cancel Preloader

সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের পবিত্র চেহলাম অনুষ্ঠিত


মো. আক্তার হোসেন
মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের প্রিয় বন্ধু, মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) দয়াল বাবা কেবলাজানের পবিত্র চেহলাম অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে ঢাকার বাবে রহমত কেন্দ্রীয় দরবার শরীফে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ইং শুক্রবার বিশেষ আশেকে রাসুল রাসুল (সা.) মাহফিলের আয়োজন করা হয়।


চেহলাম অনুষ্ঠানের ৪০ দিন পূর্বে ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০ইং সোমবার সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান ৭১ বছর বয়সে ওফাত লাভ করেন। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুরকেবলাজানের সম্মানিত ৪ সাহেবজাদা তথা মোহাম্মদী ইসলামের ৪ ইমাম। জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. নূর-এ-খোদা আল আজহারী (মা. আ.) হুজুর, সেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. ফজল-এ-খোদা (মা. আ.) হুজুর এবং কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. মঞ্জুর-এ-খোদা (মা. আ.) হুজুর। অনুষ্ঠানে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রওজা শরীফ জিয়ারত পরিচালনার পর আখেরি মোনাজাত করেন মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর।


সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানের চেহলাম অনুষ্ঠানটি প্লাটফর্মের মাধ্যমে দেশ ও বিদেশের অসংখ্য আশেকে রাসুল ভক্তগণ দেখার সুযোগ পান। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের ৪ সাহেবজাদা তাঁদের আলোচনায় সকলকে তাঁদের সাথে এক হয়ে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করার জন্য আহ্বান জানান। ইমামগণ বলেন, তারা ৪ ভাই একমত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তবে তাঁদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সম্মানিত মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.)।

দয়াল বাবাজানের অছিয়ত মোতাবেক ৪ জন ইমাম সূফী সম্রাটের ভক্ত আশেকে রাসুলদের নিয়ে মোহাম্মদী ইসলামকে বিশ্বময় প্রচারের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইমামগণের ৩ জনই বলেছেন, তাঁরা মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুরকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন।


সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান তাঁর ওফাতের পূর্বেই তাঁর ৪ জন সাহেবজাদা ও ২ জন সাহেবজাদির সামনে অছিয়ত করে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম কিভাবে চলবে, তা বলে গেছেন। সূফী সম্রাট দয়াল বাবা কেবলাজান সব সময়ই বলতেন, আমার দরবারে কোনো ‘পির’ হবে না। আমার ৪ সাহেবজাদাই হবে ‘ইমাম’। কেননা, আমি কোনো তরিকা প্রচার করি না। আমি মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করি। মোহাম্মদী ইসলামে কোনো পির হওয়ার সুযোগ নেই। সূফী সম্রাট হুজুর তাঁর ওফাতের পূর্বেই ৪ জন সাহেবজাদাকে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারে তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দিয়ে যান। আর ৪ ইমামের নেতৃত্বে থাকবেন তাঁর মেজো সাহেবজাদা, একথাও তিনি অছিয়ত করে যান। দয়াল বাবাজানের চেহলাম অনুষ্ঠানে ইমামগণ বলেন, সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানের সারা জীবনের পরিশ্রমের ফসল হচ্ছে ‘মোহাম্মদী ইসলাম’। আর তা প্রচারে তারা ৪ ভাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।


উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি, ২০২১ইং, শুক্রবার বাবে রহমতে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের ফাতেহাখানি উপলক্ষ্যে আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়। তখন সূফী সম্রাটের ৪ জন সাহেবজাদা দয়াল বাবাজানের নির্দেশনা এবং অছিয়তনামার কথা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন। মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সেই কারণেই তাঁর জানাজা নামাজের পরে তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করা হয়। অপরদিকে তাঁর ওফাত লাভে শোকাহত হয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের মাননীয় বিচারপতিগণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও শিক্ষকবৃন্দ শোকবার্তা জানান।


সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুরের ৪ সাহেবজাদা সম্মানিত ৪ জন ইমামই সেই চিরন্তন বাণী- ‘সবার উপরে মোর্শেদ সত্য, তাঁহার উপরে নাই’-এর উপরে কায়েম থেকে আশেকে রাসুল জাকেরবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারের আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্যে আরো যে সকল দিক নির্দেশনা রয়েছে, তা হলো কিয়ামত পর্যন্ত মোহাম্মদী ইসলামের মোর্শেদ থাকবেন সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান। আশেকে রাসুল ভক্তবৃন্দকে করণীয় দিক নির্দেশনার জন্য সম্মানিত ৪ ইমামের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। সেই মোতাবেক আশেকে রাসুল ভক্তবৃন্দ পরিচালিত হতে পারলেই সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী দয়াল বাবাজানের প্রচারিত মোহাম্মদী ইসলাম ব্যাপকভাবে বিশ্বময় প্রচার ও প্রসারের গতিশীলতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়।


প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের সর্বশেষ অছিয়তনামা কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. মঞ্জুর-এ-খোদা হুজুর উপস্থিত লক্ষ লক্ষ আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে পাঠ করে শুনান। এর ফলে সকল আশেকে রাসুল ভক্ত মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাটের দিক নির্দেশনা সম্পর্কে জানতে পেরে আশ্বস্ত হন। তারা ৪ সাহেবজাদার সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে দয়াল মোর্শেদ কেবলাজানের রেখে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলাম ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য অঙ্গীকার করেন।


সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর চেহলাম অনুষ্ঠানটি শুক্রবার বাদ জুমা পবিত্র মিলাদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়। আশেকে রাসুল হযরত এমরান হোসাইন মাজহারীর উপস্থাপনায় সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুরের সম্মানিত ৪ সাহেবজাদা বক্তব্য প্রদান করেন।

কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. মঞ্জুর-এ-খোদা (মা. আ.) হুজুর বক্তব্য প্রদান করতে গিয়ে বলেন- আমাদের মহান মোর্শেদ কেবলাজান বলে গেছেন, আমার দরবারে কোনো পির হবে না। আমার ৪ সাহেবজাদাই হবে ইমাম। দয়াল বাবাজান আমাদের ৪ ভাইকে এক হয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়ে গেছেন এবং বলেছেন যে, আমরা যেন মেজো সাহেবজাদা হুজুরকে সহযোগিতা করি। আসলে আমাদের মোর্শেদ কেব্লাজান সকল আশেকের মাঝেই বিরাজমান রয়েছেন। যে মনে করবে মোর্শেদ ওফাত লাভ করেছেন, তার মোর্শেদ নেই। তিনি সকলকে সম্মিলিতভাবে সাহেবজাদা হুজুরগণের সাথে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারের কাজ করার জন্য আহ্বান জানান। কনিষ্ঠ সাহেবজাদা হুজুর আরো বলেন- মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে আমরা ৪ ভাই ঐক্যবদ্ধ আছি। আমাদের মধ্যে কেউ ফাটল ধরাতে পারবে না। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তাঁর কণ্ঠে শানে মোর্শেদ একটি গজল পরিবেশিত হয়। এই গজলটি শুনে আশেকে রাসুলদের হৃদয় মোর্শেদের প্রেমে বিগলিত হয়ে পড়ে।


অতঃপর বক্তব্য প্রদান করেন- সেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. ফজল-এ-খোদা (মা. আ.) হুজুর। তিনি তাঁর আলোচনায় বলেন- দয়াল বাবাজান ৪টি শিক্ষা দিতেন। সেগুলো মেনে চললে আপনারা উপকৃত হবেন। তিনি বলেন- মুরিদের মোর্শেদ কখনো মরেন না। যারা অন্তর চক্ষু দিয়ে দেখেন, তাদের মোর্শেদ মারা যাননি। আমি স্বপ্নে বাবাজানকে দেখি, মোর্শেদ আমার সামনে দাঁড়িয়ে হাসছেন। বাবাজান বলেছেন- আপনারা কোনো ফেতনায় জড়াবেন না। সেজো সাহেবজাদা হুজুর আরো বলেন- জাহেরিতে এখন মোর্শেদকে দেখা সম্ভব নয় একথা সত্য। রূহানিতে মোর্শেদ আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকবেন। তিনি বলেন- আপনি যদি বাবাজানের অছিয়তনামা অমান্য করেন, তবে বাবাজানের নির্দেশই অমান্য করা হবে। কাজের সুবিধার জন্য দয়াল বাবাজান মেজো হুজুরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারা ৪ ইমামকে সম্মান করবেন। কাউকে অসম্মান করলে আপনারা তরিকা থেকে বাদ হয়ে যাবেন।


সেজো সাহেবজাদা হুজুরের পরে বক্তব্য প্রদান করেন জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. নূর-এ-খোদা আল আজাহরী (মা. আ.) হুজুর। তিনি সূফী সম্রাটের বেশ কয়েকটি সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন- সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের অন্যতম সংস্কার হলো- শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। তাঁর আরো সংস্কার হলো পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) ও জুমার খুৎবা মাতৃভাষায় প্রচলন। তিনি ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ প্রণয়ন করেছেন। সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেছেন- আল্লাহ্ নিরাকার নন, তিনি নুরের আকার নিয়ে বিদ্যমান রয়েছেন। জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা হুজুর বলেন- আমাদের মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান যে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করেছেন, তা আমরা ৪ ভাই, দুই বোন ও আপনারা সকলে মিলে এগিয়ে নিয়ে যাব।


সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানের পবিত্র চেহলাম উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিলে সর্বশেষে বক্তব্য পেশ করেন সূফী সম্রাটের মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর। তিনি তাঁর আলোচনায় আশেকে রাসুল ভক্তবৃন্দকে কিছু দিক নির্দেশনা দেন।

ড. মেজো হুজুর বলেন- মোর্শেদ কেবলাজান আমাদের ৪ ভাইকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন যে, আমরা যেন সম্মিলিতভাবে তাঁর আদর্শ ধরে রাখি। এক শ্রেণির মোনাফেক দয়াল বাবাজানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে আশেকে রাসুলদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে, কিন্তু তা সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন- মোনাফেকেরা ফেইসবুক ও ইউটিউবে সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজান এবং আমার সম্পর্কে যতই অপপ্রচার করুক না কেন, দেওয়ানবাগীর মুরিদকে ইমানহারা করা এত সহজ নয়। মনে রাখবেন যারা নিজেরা ফেতনা লাগাচ্ছেন, আপনার ভুল তথ্যের জন্য আপনাকেই জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন- আমরা ৪ ভাই এবং ২ বোন বাবাজানের ঔরশজাত সন্তান, আর আপনারা দয়াল বাবাজানের আত্মার সন্তান। সুতরাং মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারের জন্য আপনাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।


মেজো সাহেবজাদা হুজুর আরো বলেন- দয়াল বাবাজান আমাকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সেগুলো পর্যায়ক্রমে আপনাদেরকে জানাবো। ড. মেজো হুজুর বলেন- সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজান আমাকে যখন জোড়ালোভাবে দায়িত্ব পালনের হুকুম দিলেন- তখন আমি বলেছিলাম, আমার স্ত্রী ও আমার সন্তান আপনার জন্য কোরবান হবে এবং আমি নিজেকেও আপনার জন্য কোরবানি করব। কিন্তু জান থাকতে আপনার আদর্শ ছেড়ে যাব না। আমি জীবন দিয়ে হলেও আপনার প্রচারিত মোহাম্মদী ইসলাম ধরে রাখবো।

তিনি সূফী সম্রাটের আশেক ভক্তদের আশ্বস্ত করে বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ইং থেকে আপনাদের জিয়ারতের জন্য দয়াল বাবাজান ও দয়াল মায়ের রওজা শরীফ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জিয়ারত করতে পারবেন।
আখেরি মোনাজাতের পূর্বে ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুরের রওজা শরীফ জিয়ারত পরিচালনা করেন। দেশে-বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন আঞ্চলিক দরবার শরীফ, খানকা শরীফ এবং আশেকে রাসুল জাকের মজলিস থেকেও একযোগে সকল জাকেরবৃন্দ রওজা শরীফ জিয়ারতে অংশগ্রহণ করেন।
পরিশেষে তিনি আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। অতঃপর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
[লেখক: সাংবাদিক]

সম্পর্কিত পোস্ট