Cancel Preloader

জীবনচরিত – হযরত হাজি আলী শাহ বুখারি (রহ.)

হযরত হাজি আলী শাহ বুখারি (রহ.) ভারতের একজন প্রখ্যাত সুফিসাধক। ভারতের মুম্বাইয়ের হিন্দু, মুসলিম তথা জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ তাঁকে ভক্তি ও শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে। ১৪৩১ সালে মুম্বাই শহরে তাঁর দরগাহ প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি উজবেকিস্তানের বুখারা থেকে ভারতে আগমন করেন। পরবর্তীতে সেখানে হাজি আলি শাহ বুখারি (রহ.) দয়াল রাসুল (সা.)-এর আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
হাজি আলী শাহ বুখারি (রহ.)-এর জীবদ্দশায় এবং তাঁর ওফাতের পর অনেক অলৌকিক ঘটনা রয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, তিনি বিয়ে করেননি এবং তাঁর কোনো বংশধর নেই। হাজি আলী (রহ.) তাঁর মায়ের অনুমতি নিয়ে তাঁর সহোদর ভাইয়ের সাথে ব্যবসার উদ্দেশে ভারতে আগমন করেন এবং অবশেষে মুম্বাইয়ের আরব সাগরের উপকূলে ওরলির কাছে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তাঁর ভাই ভারতে ব্যবসা শেষে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যান। হাজী আলী শাহ বুখারি (রহ.) তাঁর মায়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানান যে, তিনি ইসলাম প্রচারের জন্য স্থায়ীভাবে ভারতে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি যেন তাঁকে ক্ষমা করে দেন।
কথিত আছে যে, একদা হাজি আলী শাহ বুখারি (রহ.) নিজ শহরের কোনো এক নির্জন স্থানে বসা ছিলেন। এমন সময় একজন মহিলা কাঁদতে কাঁদতে তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। মহিলাটি তার হাতে একটি খালি পাত্রের দিকে ইশারা করে বলল যে, তার হাতে থাকা পাত্রের তেল মাটিতে পড়ে গেছে। আর তেল ছাড়া বাড়িতে গেলে তার স্বামী তাকে মারবে। তাই সে কাঁদছিল। হযরত হাজি আলী (রহ.) তাকে শান্ত হতে বললেন। তিনি তার সাথে তেল ফেলার জায়গায় গেলেন। তারপর তিনি মহিলার কাছ থেকে পাত্রটি নিয়ে তাঁর বুড়ো আঙুল দিয়ে মাটিতে চাপ দিলেন। মুহূর্তের মধ্যে ঝর্ণার মতো তেল বের হয়ে পাত্রটি পূর্ণ হয়ে গেল। তিনি তাকে পাত্রভর্তি তেল দিলেন। মহিলাটি খুশি হয়ে চলে গেল।
হাজি আলী (রহ.) তাঁর ওফাতের আগের দিন ভক্তদের নির্দেশ দিয়ে বললেন- “আমার লাশ সমুদ্রের মাঝে ফেলে দিও, সমুদ্রের মাঝখানেই আমি থাকবো, মাটির ভিতর যাবো না। এরপর তাঁর ওফাতের পর দেহ মোবারক সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হলে সাথে সাথেই সেখানে (আরব সাগরের উপকূলে ওরলিতে) গায়েবি মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়।”
বর্তমানে দেখা যায়, সারা দিন সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে দরগায় যাওয়ার পথ সাগরে ডুবে থাকে। আবার যখন আসরের আজান হয় তখন সমুদ্র শান্ত হয়ে যায়। অতঃপর ভক্তবৃন্দরা দরগাহ জিয়ারতে দলে দলে সমবেত হন। মুম্বাইয়ে বিপদে পড়ে যদি কেউ ভক্তি ভরে তাঁর উসিলায় মহান আল্লাহ্র সাহায্য কামনা করে ‘দোঁহাই হাজি আলি’ বলে, তাহলে তার বিপদ কেটে যায় এবং আল্লাহ্র রহমত তার উপর বর্ষিত হয়।
এ মাজারটি ৫৫০ বছরেরও বেশি পুরানো বলে পরিচিত। ২০২০ সালে, মাজারটি বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় পবিত্রতম স্থান হিসাবে ওয়ার্ল্ড বুক অফ রেকর্ডসে তালিকাভুক্ত হয়। মাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়, যেখানে শুক্রবার, রবিবার এবং বৃহস্পতিবার দর্শনার্থীর সংখ্যা লক্ষাধিক হয়। হাজি আলী (রহ.)-এর দরগাটি ছোটো দ্বীপে অবস্থিত। উপকূল থেকে ৫০০ মিটার দূরে।
স্মৃতিস্তম্ভের সাথে যুক্ত একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। ২০০৫ সালে একদিন প্রবল বৃষ্টি মুম্বাইতে আঘাত হানে, ফলে হাজি আলী (রহ.)-এর দরগাহ ব্যতীত পুরো শহরজুড়ে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। তাছাড়া বর্ষাকালে মুম্বাইয়ের সমস্ত রাস্তাগুলি এবড়ো থেবড়ো এবং গর্তে পূর্ণ হয়ে যায়, কিন্তু হাজি আলী (রহ.)-এর দরগায় যাওয়ার পথটি মসৃণ থাকে। সমুদ্রের মাঝখানে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও দর্শনার্থীরা এই পথটিকে সবচেয়ে নিরাপদ দেখেন।
তথ্যসূত্র

1|  https://www.hajialidargah.in/hajiali_history1.html

2|https://www.dailysabah.com/arts/haji-ali-dargah-spiritual-islamic-abode-in-mumbai/news

সংকলনে-এসজি মোর্শেদ

সম্পর্কিত পোস্ট