সূফী সম্রাট হযরত মাহবুব-এ-খোদা (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলাজান।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিত মৃত্যু থেকে বাবা দেওয়ানবাগী আমাকে রক্ষা করলেন


ইমাম ড. সৈয়দ এ. এফ. এম. মন্জুর -এ-খোদা
মহান রাব্বুল আলামিন পথভোলা মানবজাতিকে মুক্তি, কল্যাণ এবং সঠিক পথের সন্ধান দেওয়ার জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁরা দয়াময় রাব্বুল আলামিনের পরিচয় জাতির কাছে তুলে ধরেছেন এবং সমকালীন যুগের মানুষকে হেদায়েতের আলো দ্বারা আলোকিত করেছেন। নবুয়তের যুগে নবি-রাসুলগণ হতে প্রকাশিত মু’জিজা দ্বারা মানুষ চিনতে পেরেছেন তাঁরা মহান আল্লাহর মনোনীত মহামানব। বর্তমান বেলায়েতের যুগেও অলী-আল্লাহগণের মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামিন অসংখ্য অলৌকিক কারামত সংঘটিত করছেন, যেগুলো তাঁদের সত্যতার দলিল স্বরূপ। আকাইদের কিতাবে বর্ণিত আছে, “নবিগণের মু’জিজা যেমন সত্য,অলী-আল্লাহ্গণের কারামত সত্য।” এছাড়া এই প্রসঙ্গে তাফসীরে মাজহারিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা হচ্ছে-‘আওলিয়া কেরামের কারামত তাঁদের নবিদের মু’জিজার ন্যায় হয়ে থাকে’।” (তাফসীরে মাজহারী, ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৭)

প্রখ্যাত সূফী সাধক হযরত জালালুদ্দিন রুমী (রহ.) বলেন-
‘আউলিয়ারা হাস্তে কুদরাত আজিলা,
তিরে জুস্তা বাজে গার্দাদ আজেরা’
অর্থাৎ- মহান আল্লাহর অলী যদি ইচ্ছা করেন, নিক্ষিপ্ত তিরকে যেখানে খুশি আটকে দিতে পারেন।
বেলায়েতের যুগের শ্রেষ্ঠ ইমাম সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের সান্নিধ্যে এসে অসংখ্য মানুষ আত্মার মুক্তির সন্ধান লাভসহ বিভিন্ন বিপদ-আপদ ও বালা মছিবত থেকে উদ্ধার পাচ্ছেন। মোহাম্মদী ইসলামের অনুসারী আশেকে রাসুলদের মধ্যে প্রতিদিন এমনি অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। পাঠকের জ্ঞাতার্থে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি অলৌকিক ঘটনা, নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-

দিনটি ছিল শুক্রবার। সকালবেলা আমার মহান মোর্শেদ দয়াল বাবাজানকে কদমবুসি করে বাবে জান্নাত, দেওয়ানবাগ শরীফে সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিলে যোগদানের উদ্দেশ্যে ‘বাবে রহমত’ থেকে রওনা হই। সারাদিন সুষ্ঠুভাবে মাহ্ফিল শেষ করে ‘বাবে জান্নাত’ হতে বিকাল পৌনে তিনটায় বাবে রহমতে প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রওনা হই। বাবে জান্নাতের গেইট থেকে বের হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে ঢাকা অভিমুখে আমার গাড়ি চলতে থাকে। তখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি গাড়ির ডান পাশে বসা ছিলাম। যে দিক দিয়ে আমার গাড়ি চলছিল, ঠিক এর বিপরীত পার্শ্বের রাস্তা দিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে দ্রুতগতিতে একটি বাস যাচ্ছিল। হঠাৎ আমি লক্ষ্য করলাম চট্টগ্রামগামী দ্রুতগতির বাসটির সামনে দিয়ে একটি ছোটো ছেলে দৌঁড়ে রাস্তা পার হচ্ছিল। বাসটি তাৎক্ষনিক ব্রেক করল। একেতো বৃষ্টি এরপরও দ্রুতগতি থাকার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটির পেছনের অংশ রাস্তার বিপরীত পার্শ্ব থেকে আমার গাড়ির দিকে ছুটে আসছে। তখন আমি নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারছিলাম যে, এখনই বাসের আঘাতে আমার গাড়িটি চুর্ণবিচুর্ন হয়ে যাবে এবং আমি-সহ গাড়িতে যারা আছি কেউ বাঁচতে পারবো না। মুহূর্তের মধ্যেই আমি দেখতে পেলাম আমার মহান মোর্শেদ দয়াল বাবা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন, তখনি তীব্র বেগে ছুটে আসা সেই বাসের পিছনের অংশটি বিকট আওয়াজ করে আমার গাড়ির ঠিক এক হাত দূরে স্থির হয়ে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি এবং উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সবাই একদম হতভম্ব হয়ে পড়ি! এদিকে আশপাশের লোকজন মনে করেছিল আমার গাড়িটি হয়ত দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। তাই তারা ছুটে আসে আমাদের উদ্ধার করতে। কিন্তু এসে যখন দেখতে পায় আমি এবং আমার গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে অক্ষত, তখন তারা বলতে থাকেন ‘‘আল্লাহর বিশেষ দয়ার বদৌলতে আপনারা রক্ষা পেয়েছেন।’’

এরপর আমি বাবে রহমতে চলে আসলাম। যেহেতু সেদিন ছিল শুক্রবার, তাই বাবে রহমত, দেওয়ানবাগ শরীফেও ছিল সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিল। আমি বাবে রহমতে পৌঁছে দেখলাম মাহ্ফিল শেষ হয়ে গেছে। মাহফিলে আগত আশেকে রাসুল ভাইয়েরা তখন দয়াল বাবাজানকে কদমবুসি করে বিদায় নিচ্ছেন। আমিও দয়াল বাবাজানকে কদমবুসি করার জন্য সবার সাথেই লাইনে দাঁড়ালাম। একটু একটু করে লাইন এগিয়ে যাচ্ছে দয়াল বাবাজানের দিকে, সাথে আমিও ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। লাইনে দাঁড়িয়ে দূর থেকেই আমি লক্ষ্য করলাম দয়াল বাবাজান এই ভীড়ের মধ্যেও বারবার উঁকি দিয়ে আমাকে দেখার চেষ্টা করছেন। আমি যখন দয়াল বাবাজানের কাছে পৌঁছলাম, দয়াল বাবাজান একটু বিচলিত হয়েই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন “আব্বু! তোমার কোথাও লাগেনিতো?” আমি দয়াল বাবাজানের কদম মোবারক জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিয়ে বললাম “বাবাজান! আপনি কি আমার কোথাও লাগতে দিয়েছেন?” আমার এ কথা শোনার পর দয়াল বাবাজান নিশ্চুপ হয়ে রইলেন। অতঃপর দয়াল বাবাজান আমাকে বললেন, “আজকে অনুষ্ঠানে জাকেরদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ করে আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে- বাবে জান্নাত থেকে তোমার রক্তাক্ত লাশ বাবে রহমতে এসেছে। তোমার লাশের ডান পাশটি ছিল একেবারে থেতলানো। এই দৃশ্যটি দেখে আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। আমি মনে মনে ভাবলাম আহারে! সকাল বেলাতো ছেলেটা আমার অনুমতি নিয়ে, আমাকে কদমবুসি করে বাবে জান্নাত গিয়েছিল। তাহলে এমন কেন হবে? তখন আমি বক্তব্য থামিয়ে রূহানিতে মহান আল্লাহর সাহায্য চেয়ে তোমার জন্য ব্যবস্থা করি। এ অবস্থায় আমি প্রায় এক থেকে দেড় মিনিট নিশ্চুপ ছিলাম। জাকেররা মনে করেছিল আমি হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়েছি। যা হউক, আল্লাহ দয়া করে তোমাকে সাহায্য করেছেন। তুমি নিরাপদে ফিরে এসেছো।”
আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন “তোমরা মু’মিন ব্যক্তির অন্তরদৃষ্টিকে ভয় করো, কেননা সে মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর নুর বা জ্যোতির সাহায্যে দেখে থাকেন।”(তাফসীরে আলীয়্যুন ফিল কুরআনে ওয়াস সুন্নাহ ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৬; তাফসীরে জিলানী ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৩)

প্রিয় পাঠক! চিন্তা করে দেখেন সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) দয়াল বাবাজান কেমন দয়াল দরদি মোর্শেদ। যিনি তাঁর ভক্ত মুরিদকে কীভাবে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা করে থাকেন। বিপদ-আপদ, বালা-মছিবত কম বেশি প্রত্যেকের জীবনেই আসে। কিন্তু কঠিন মছিবতের সময় যখন আর কোনো সাহায্যকারী থাকে না, তখনই মহান মোর্শেদ দয়া করে সাহায্য করে মছিবত থেকে উদ্ধার করে থাকেন। হে দয়াময় আল্লাহ! হে দুঃখ-কষ্ট লাঘবকারী! হে বিপদ দূরকারী! হে নিরুপায়ের প্রার্থনা কবুলকারী! আপনি তো রহমতকারী! আমাদের এমন রহমত দান করুন যাতে করে আমরা আজীবন আপনার মহান বন্ধু সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের পরশময় কদম মোবারকে আশ্রয় লাভ করতে পারি এবং জগদ্বাসীর কাছে আপনার বন্ধুর পরিচয় তুলে ধরতে পারি। আমিন।
[লেখক: পরিচালক, দেওয়ানবাগ শরীফ; সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ]

Digiqole ad

সম্পর্কিত পোস্ট