মোহাম্মদী ইসলামের কেন্দ্র দেওয়ানবাগ শরীফ


মুহাম্মদ জহিরুল আলম
দয়াময় আল্লাহ্ মানবজাতির মুক্তির জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবি, রাসুল ও মহামানব প্রেরণ করেছেন। তাঁরা সকলেই মুসলমান ছিলেন, তাঁদের মতাদর্শই ছিল ইসলাম। সমকালীন যুগে মানুষের কর্তব্য ছিল তাঁদের প্রতি পূর্ণ অনুগত হওয়া। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেন, “আমার সৃষ্টির মাঝে একটি সম্প্রদায় রয়েছে, যারা মানুষকে সৎ পথ দেখান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন।” (সূরা আরাফ-৭ : আয়াত ১৮১) যারা ঐ মহামানবগণের শিক্ষা ও আদর্শ মেনে সে মোতাবেক জীবন পরিচালনা করেছেন, তারাই আল্লাহ্র খাঁটি বান্দা, আর যারা মহামানবগণের শিক্ষা ও আদর্শকে অস্বীকার করেছে, তারাই কাফের বলে অভিশপ্ত হয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। মহান আল্লাহ্ বলেন, “আমি রাসুল না পাঠানো পর্যন্ত কোনো কওম বা জাতিকে শাস্তি দেই না।” (সূরা বনী ইসরাঈল-১৭ : আয়াত ১৫)
যুগে যুগে মহামানবগণের শিক্ষা ও আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করাই ছিল সমকালীন মানুষের ধর্ম। দয়াময় আল্লাহ্ বলেন, “প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আমি হেদায়েতকারী পাঠাই।” (সূরা রাদ-১৩ : আয়াত ৭) মুক্তি পেতে হলে ঐ হেদায়েতকারী মহামানবের নিকট যেতে হবে। তাঁকে কেন্দ্র করেই সমকালীন যুগের ধর্ম আবর্তিত হয়। তিনিই যুগোপযোগী ধর্মীয় বিধান প্রনয়ণ করেন।
মহান রাব্বুল আলামিন হযরত আদম (আ.)-কে প্রথম নবি তথা হেদায়েতকারী মহামানব হিসেবে প্রেরণ করেন, সেসময় হযরত আদম (আ.)-এর বিধান মানাই ছিল ধর্ম। হযরত আদম (আ.)-এর পর তাঁর পুত্র শীষ (আ.)-কে আল্লাহ্ নবি হিসেবে মনোনীত করেন, অতপর হযরত ইদ্রিস (আ.)-এর আগমন হয়েছিল। পরবর্তিতে হযরত নূহ (আ.) পর্যন্ত মানবজাতি একই ভূখন্ডে ছিল, তা ছিল মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ রয়েছে, হযরত নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছিলেন, “হে আমার দেশবাসী!
আমি তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সাবধানকারী (রাসুল)। (তোমাদের স্পষ্টভাবে বলছি) তোমরা সবাই আল্লাহ্র দাসত্ব করো, তাঁকে ভয় করো এবং আমাকে মেনে চলো।” (সূরা নূহ-৭১: আয়াত ২-৩) অর্থাৎ হযরত নূহ (আ.)-ই ছিলেন সমকালীন যুগে ধর্মের কেন্দ্র। অর্থাৎ তাঁর সংস্পর্শে গিয়ে, তাঁর আদর্শ ও আনুগত্য স্বীকার করাই ছিল মূল বিষয়। এমনিভাবে হযরত ইব্রাহীম (আ.) তাঁর পিতা ও তাঁর কওমকে মহান আল্লাহ্র দাসত্ব তথা সত্যের পথে আহবান করেছিলেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.) ছিলেন
যুগশ্রেষ্ঠ মহামানব, তাই হযরত লুত (আ.) তাঁর প্রতি ইমান আনলেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেন, “সে সময় লুত তাঁর প্রতি ইমান আনলেন এবং তখন ইব্রাহীম বললেন, ‘আমি আমার রবের দিকে হিজরত করছি। নিশ্চই আল্লাহ্ মহাশক্তিশালী ও মহাকৌশলী।” (সূরা আনকাবুত-২৯ : আয়াত ২৬) নবিগণ রাসুলগণের অধীনে থেকে ধর্ম প্রচার করেছেন। যেমন হযরত ইব্রাহীম (আ.) ছিলেন রাসুল, তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.) ও হযরত ইসহাক (আ.) এবং ভ্রাতুষপুত্র হযরত লুত (আ.)
ছিলেন নবি। হযরত মুসা (আ.) ছিলেন রাসুল এবং তাঁর ভাই হযরত হারুন (আ.) ছিলেন নবি। এ থেকেও বুঝা যায়, যুগশ্রেষ্ঠ মহামানবকে কেন্দ্র করেই সমকালীন যুগে ধর্ম পরিচালিত হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেন, “আর আপনার রব জনপদসমূহকে ধ্বংস করেন না, যে পর্যন্ত না তিনি তাঁর কেন্দ্রস্থলে রাসুল প্রেরণ করেন।” (সূরা আল ক্বাছাছ-২৮ : আয়াত ৫৯)
যুগে যুগে যত মহামানব এসেছেন সকলেই আল্লাহ্র পরিচয় জগদ্বাসীর নিকট তুলে ধরেছেন এবং আল্লাহ্কে পাওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন।
পরম করুণাময় আল্লাহ্র সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা.), তিনি হলেন আল্লাহ্র সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু । বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির মুক্তির জন্য যে ধর্ম প্রবর্তন করেছেন, তাই ‘মোহাম্মদী ইসলাম’। দয়াল রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানব মুক্তির জন্য এলমে শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফত সংবলিত পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব ‘আল কুরআন’ প্রাপ্ত হয়েছেন এবং সেই অনুযায়ী মানুষকে পরিচালিত করেছেন, তাই তাঁর প্রবর্তিত ইসলামই ‘মোহাম্মদী
ইসলাম’। মহান আল্লাহ্ দয়াল রাসুল (সা.)-কে ‘মোহাম্মদী ইসলাম’ প্রচার সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলেন, “আপনার প্রতিপালক যে নিয়ামত (সত্য) দান করেছেন, আপনি তা প্রচার করুন।” (সূরা আদ দ্বুহা ৯৩ : আয়াত ১১)

মহান আল্লাহ্র নির্দেশ পেয়ে হযরত রাসুল (সা.) মক্কায় ইসলাম প্রচার শুরু করেন। আল্লাহ্ পাকের নির্দেশে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বনবি হযরত রাসুল (সা.) মদীনায় হিজরত করেন, মদিনাবাসী সর্বান্তকরণে দয়াল রাসুল (সা.)-কে বরণ করে নেন। যে মদীনার পূর্ব নাম ছিল ‘ইয়াসরিব’, হযরত
রাসুল (সা.)-এর কদম মোবারকের স্পর্শে এর নতুন নাম হলো ‘মদীনাতুন নবি’ অর্থাৎ নবির শহর। আশেকে রাসুলগণ ছুটে গিয়েছেন দয়াল রাসুল (সা.)-এর কদম মোবারকে। হযরত রাসুল (সা.) কে কেন্দ্র করেই ছিল তাদের জীবন। পবিত্র মদীনা শরীফ থেকেই মোহাম্মদী ইসলাম বিকাশ লাভ করে। তাই এই দেশ, এই শহর দয়াল রাসুল (সা.)-এর বরকতে ধন্য হয়েছে।
৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে হযরত রাসুল (সা.) মক্কা বিজয় করেন। বিদায় হজ শেষে মদীনায় ফিরে এসে রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.) একটি স্বপ্ন দেখেন। যা তাফসিরে কাবিরে বর্ণিত হয়েছে। হযরত রাসুল (সা.) স্বপেড়ব দেখেন, বণী উমাইয়ারা একের পর এক তাঁর পবিত্র মিম্বর পদদলিত করছে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ্র রাসুল (সা.) স্বপ্নে দেখেন যে, উমাইয়া বংশের বানরগুলো একের পর এক লাফিয়ে লাফিয়ে তাঁর মিম্বরে উঠছে আর নামছে। এ স্বপ্ন দেখার পর হযরত রাসুল (সা.)
মনে খুব কষ্ট পান। পরবর্তিতে এরই সত্যতা প্রমাণিত হয়। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে এজিদ বাহিনীর ২২ হাজার সৈন্যের সাথে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর ৭২ জন আশেকে রাসুলের এক অসম যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কারবালার যুদ্ধে ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ ৭২ জন নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা নির্মম ঘটনার মধ্য দিয়ে মোহাম্মদী ইসলামের সূর্য অস্তমিত হয় এবং উমাইয়া ও আব্বাসিয়দের ৬০০ বছরের শাসনে মোহাম্মদী ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে তাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দ্বিন ইসলাম সমাজে অনুপ্রবেশ করে।
দয়াল রাসুল (সা.)-এর ওফাতের মধ্য দিয়ে নবুয়তের যুগের সমাপ্তি এবং বেলায়েতের যুগের সূচনা হয়। একথা সুস্পষ্ট, মহামানবগণ মোর্শেদরূপে নবুয়তের যুগে নবি-রাসুল এবং বেলায়েতের যুগে অলী-আল্লাহ্ হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছেন। বেলায়েতের যুগে মহামানবগণই হলেন মোহাম্মদী ইসলামের আলোকবর্তিকা। তাঁদেরকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদী ইসলাম আবর্তিত হয়েছে। তাঁদের হাতে হাত রেখে বায়েত হওয়াই মুমিন হওয়ার বিধান।

বিশিষ্ট ইসলামি গবেষক ও লেখক ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর বলেন, “হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর একমাত্র পুত্র হযরত ইমাম জয়নুল আবেদীন (রহ.) জীবিত ছিলেন। তাঁর মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলামের ধারা অব্যাহত থাকে। ইমাম জয়নুল আবেদীন (রহ.)-এর পুত্র হযরত ইমাম বাকের (রহ.) মোহাম্মদী ইসলামের আদর্শ তুলে ধরেন। পরে তাঁর পুত্র ইমাম জাফর সাদেক
(রহ.)-এর মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলামের ঝান্ডা সমুন্নত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় হযরত ইমাম আলী রেজা (রহ.), ইমাম আততকী (রহ.)-এর পুত্র হযরত আলী নকী (রহ.)-এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বেলায়েতের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বেলায়েতের যুগে বড়ো পির মহিউদ্দীন হযরত আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর আবির্ভাব ঘটে। তিনি কাদেরিয়া তরিকা প্রবর্তন করেন। পরবর্তিতে গরিবে নেওয়াজ হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি আজমিরি (রহ.), হযরত মোজাদ্দেদ আল ফেসানি সিরহিন্দ (রহ.) এবং হযরত বাহাউদ্দীন নকশবন্দ (রহ.) ধর্ম প্রচার করেছেন। এভাবে বেলায়েতের যুগে অলী-আল্লাহ্গণের মাধ্যমে আমাদের এ ভারতবর্ষে ইসলামের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ
মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজানের পূর্ব পুরুষ বাংলাদেশে আগমন করেন। বর্তমানে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান শান্তির ধর্ম মোহাম্মদী ইসলাম বাংলাদেশ-সহ বিশ্বের বিভিনড়ব দেশে প্রচার করে যাচ্ছেন।” (মোর্শেদের দরবারে মুরীদের করণীয়, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৫১-৫২)
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) একজন প্রতিশ্রুত মহামানব। তিনি ১৯৮৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর রহমতের সময় মহান আল্লাহ্র পক্ষ হতে জমানার ‘মোজাদ্দেদ’ বা সংস্কারকের দায়িত্ব পান। ১৯৮৮ সালের ২৪ আগস্ট যুগের ইমাম তথা ইমামুল হাদির দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে বিশ্বনবি হযরত রাসুল (সা.) তাঁকে ১৯৮৯ সালের ৫ এপ্রিল রহমতের সময় ‘মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী’ খেতাবে বিভূষিত করেন। অতঃপর ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর সমস্ত নবি-রাসুলের বেলায়েত
ও তাঁদের ধর্ম পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। ২০০৮ সালের ১০ অক্টোবর, শাওয়াল মাসের পূর্ণিমার চাঁদে মহান আল্লাহ্ তাঁকে স্বরূপে প্রকাশ করেন। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ আজও তাঁর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি পূর্ণিমার চাঁদে দেখতে পাচ্ছেন। দয়াল রাসুল (সা.)-এর মোহাম্মদী ইসলামের সুমহান আদর্শ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান ঢাকার মতিঝিলের বাবে রহমত, দেওয়ানবাগ শরীফে কেন্দ্রীয় দরবার শরীফসহ সারাদেশে মোট ১১টি দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন।
পৃথিবীর শতাধিক দেশে এবং বাংলাদেশের বিভিনড়ব জেলায় শত শত খানকায়ে মাহ্বুবীয়া ও জাকের মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বহির্বিশ্বে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড আশেকে রাসুল অর্গানাইজেশন ( World Ashek -e- Rasul Organization)
তথা বিশ্ব আশেকে রাসুল সংস্থা গঠন করেছেন।
পৃথিবীর ইতিহাসে তিনিই একমাত্র মহামানব, যাঁর লিখিত ১৫টি গ্রন্থ রয়েছে এবং আরো গ্রন্থ প্রকাশের অপেক্ষায়। প্রকাশিত প্রতিটি গ্রন্থ তাসাউফ জগতের অমূল্য সম্পদ। গ্রন্থগুলো হলো- মহান আল্লাহ্র জাত-পাক ও সিফাতের উপর ৮ খণ্ডে লিখিত মহামূল্যবান তাফসীর গ্রন্থ- ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’, ‘স্রষ্টার স্বরূপ উদ্ঘাটনে সূফী সম্রাট : আল্লাহ্কে সত্যিই কি দেখা যায় না?’, ‘বিশ্বনবীর স্বরূপ উদঘাটনে সূফী সম্রাট: রাসূল (সঃ) সত্যিই কি গরীব ছিলেন?’, ‘ইমাম সৈয়দ আবুল
ফজল সুলতান আহমদ (রহ.) (জীবনীগ্রন্থ),’ ‘এজিদের চক্রান্তে মোহাম্মদী ইসলাম’, ‘সূফী সম্রাটের যুগান্তকারী ধর্মীয় সংস্কার-১ম খণ্ড ও ২য় খণ্ড’, সূফী সম্রাটের যুগান্তকারী অবদান: ‘আল্লাহ্ কোন পথে?’, ‘আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের সহজ পথ’, ‘মুক্তি কোন পথে?’, ‘শান্তি কোন পথে?’, ‘ফেরকা সমস্যার সমাধান’, ‘ঈদ সমস্যার সমাধান’, ‘সন্তানের প্রতি মায়ের অধিকার’, ‘কবর ও মাজার সম্পর্কে ইসলামের বিধান’, ‘মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফা’। এই গ্রন্থগুলোতে মানবজাতির শান্তি, মুক্তি ও কল্যাণের পথ আলোচনা করা হয়েছে।
বর্তমান যুগের ইমাম- ইমামুল হাদি সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান। তিনিই হাদি শ্রেণির অলী-আল্লাহ্গণের ইমাম। পৃথিবীর এই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিবেশে ইসলামের প্রকৃত শান্তি বাস্তব জীবনে উপলব্ধি করতে হলে তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তাঁর সংস্পর্শে এসে অসংখ্য মানুষ আশেকে রাসুল হয়ে দয়াল রাসুল (সা.)-এর দিদার পেয়ে ধন্য হচ্ছেন। তিনি আজ হতে ৩৫ বছর পূর্বে ‘দেওয়ানবাগ শরীফ’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘দেওয়ানবাগ শরীফ’ হতে বিশ্বব্যাপী দয়াল রাসুল
(সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ তুলে ধরা হচ্ছে। তাই বর্তমান যুগে মোহাম্মদী ইসলামের কেন্দ্র দেওয়ানবাগ শরীফ। তিনিই ১৪০০ বছরের হারিয়ে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলামকে জগতের বুকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কালের প্রবাহে সঞ্চিত সকল বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়ে মোহাম্মদী ইসলাম আজ স্বরূপে প্রস্ফুটিত। তিনি ঘোষণা করেন, হযরত রাসুল (সা.)-এর মোহাম্মদী ইসলামের মতো এখন ইমামতের যুগ হবে। মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.)-এর নেতৃত্বে চার
সাহেবজাদা ইমাম হিসেবে মোহাম্মদী ইসলামকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। সূফী সম্রাট দেওয়নবাগী (মা. আ.) মোহাম্মদী ইসলামের যে রূপরেখা প্রদান করেছেন, তাই হবে অনাগতকাল ধরে অশেকে রাসুলগণের অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেব্লাজান মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ বিশ্বময় তুলে ধরার জন্য ‘সূফী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এখান থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র ও কিতাবাদির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ‘মোহাম্মদী ইসলাম’ প্রচার হচ্ছে। পবিত্র কুরআনের বাণী ও এর প্রকৃত রহস্য জগদ্বাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য তিনি ‘আল কুরআন গবেষণা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর নির্দেশনায় প্রকাশিত সংবাদপত্রের মাধ্যমে বিশ্বের অগণিত মানুষের কাছে মোহাম্মদী ইসলামের বাণী
পৌছে যাচ্ছে। মাসিক ‘আত্মার বাণী’ (প্রথম প্রকাশ ১৯৮১ খ্রি.), সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ (১৯৮৯ খ্রি.), দৈনিক ইনসানিয়াত (১৯৯১ খ্রি.), ইংরেজী সাপ্তাহিক The Weekly Message (১৯৯২ খ্রি.) পত্রিকাগুলো এই দরবার শরীফ হতে প্রকাশিত হচ্ছে।
সুফি দর্শন কেন্দ্রিক অনন্য পত্রিকা ‘আত্মার বাণী’ ৪০তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। যোগ্য সম্পাদক ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর পত্রিকাটিকে প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণের মাধ্যমে বিশ্বময় মানুষের হাতে পৌছে দিয়েছেন। সুফি সাধক, আশেকে রাসুল ও মুক্তিকামী মানুষের জন্য এ পত্রিকা আত্মার ফায়েজ জোগায়। মহান মোর্শেদের দর্শন প্রচারের পাশাপাশি রহমত, বরকত প্রদানে পত্রিকাটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বর্তমান যুগের মোজাদ্দেদ সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান আশেকে রাসুল তৈরি করে বিশ্বময় মোহাম্মদী ইসলামের যে জোয়ার সৃষ্টি করেছেন, তার কেন্দ্র হচ্ছে দেওয়ানবাগ শরীফ। তাঁর প্রতিটি সংস্কার আলোকবর্তিকা হয়ে পথহারা মনুষকে শান্তি, মুক্তি ও কল্যাণের পথ দেখায়। তাঁর বর্ণিল কর্মময় জীবন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মানব কল্যাণে গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপই প্রমাণ করে তিনি একবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মহামানব। তিনিই মোহাম্মদী ইসলামের মোর্শেদ। এ মহামানব
দেওয়ানবাগ শরীফকে আশেকে রাসুলের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করেছেন, এখানেই অনুষ্ঠিত হয় আশেকে রাসুলদের মহামিলন ‘বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন’।
[লেখক: প্রাবন্ধিক ও পিএইচ.ডি গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]

Digiqole ad

সম্পর্কিত পোস্ট