শুভ জন্মদিন, ইমাম প্রফেসর ড. মেজো হুজুর


ড. মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন (সোহেল)

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্ এরশাদ করেন, “তাঁর প্রতি শান্তি, যেদিন তিনি জন্মগ্রহণ করেন, যেদিন তাঁর ওফাত হবে এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন।” (সূরা মারিয়াম ১৯ : আয়াত ১৫)
মহাগ্রন্থ আল কুরআনে মহান আল্লাহ্ তাঁর উল্লিখিত বাণী মোবারকের দ্বারা মানবজাতির নিকট সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর প্রেরিত মহামানবগণের শুভ জন্ম, ওফাত ও পুনরুত্থান মানবজাতির জন্য অবারিত রহমত ও বরকত বয়ে নিয়ে আসে। আজ যে মহামানবের শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে হৃদয় নিংড়ানো শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখছি, তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন- আমার মহান মোর্শেদ মহান সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান এবং আওলাদে রাসুল, কুতুবুল আকতাব, দুররে মাকনুন হযরত সৈয়দা হামিদা বেগম দয়াল মা (রহ.)-এর মেজো সাহেবজাদা-খাজায়েনে রহমত, সিরাজুম মুনিরার অধিকারী, দেওয়ানবাগ শরীফের পরিচালক, সমন্বয়ক ও সমস্যার ফয়সালাকারী, মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বপ্রদানকারী মহামানব ইমাম প্রফেসর ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর কেবলা। ১৯৮৫ সালের পবিত্র রমজান মাসের শবে কদরের মহিমান্বিত রজনিতে এই ধুলির ধরায় তিনি আগমন করেন। আমার মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান প্রচারিত হযরত রাসুল (সা.)-এর সুমহান শিক্ষা ও আদর্শ সংবলিত মোহাম্মদী ইসলামকে বিশ্বময় প্রচারের বার্তা নিয়েই এই বিশ্বব্রহ্মান্ডে তাঁর আবির্ভাব। তাঁর শুভজন্মের ৭ দিনের মাথায় একটি অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়। এই প্রসঙ্গে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান বলেন, “মাতৃগর্ভের সাত মাস বয়সেই সে দুনিয়াতে আগমন করে। জন্মের সাত দিনের মাথায় আমি আমার দুই হাতের দুটি আঙ্গুল তার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছিলাম, সে আমার আঙ্গুল দুটি শক্তভাবে ধরে শোয়া থেকে দাঁড়িয়ে আল্লাহ্ প্রদত্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শিশু বয়সে যখন সে বসতে পারতো না, তখনকার সময় আমি যখন তার মায়ের সাথে তরিকার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতাম, তখনই তার জজবাহ্ হয়ে যেত। আল্লাহর প্রেম ওয়াজদের হালতে সে বিছানায় গড়াগড়ি খেত। (মোর্শেদের দরবারে মুরীদের করণীয় কিতাবে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান প্রদত্ত শুভেচ্ছা বাণী মোবারক থেকে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১০)


প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা জগতের বুকে তাঁর আগমনকে করেছেন সাফল্যমন্ডিত ও গৌরবদীপ্ত। মাত্র ৯ বছর বয়েসেই সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের আদর্শ প্রচারের দৃঢ় প্রত্যয় ও চেতনা তাঁর হৃদয় মাঝে জাগ্রত হয়। এই সুমহান চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি একের পর এক সময়পোযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নেন। হযরত রাসুল (সা.)-এর সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মাত্র ৯ বছর বয়সে হিলফুল ফুজুলের আদলে তিনি গড়ে তোলেন সামাজিক সেবামূলক সংগঠন ‘ইনসানিয়াত ক্লাব’। আরামবাগ ও ফকিরেরপুল এলাকার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তিনি এই ক্লাবের সদস্য করেন এবং তাদেরকে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের সুমহান শিক্ষা ও আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করার তালিম দেন। ফলে এলাকার যুব সম্প্রদায়ের মাঝে আদর্শ চরিত্র গঠন সম্ভব হয়। তিনি তাঁর ক্লাবের সদস্যদেরকে মোর্শেদের দরবারে বিভিন্ন গোলামিতে সম্পৃক্ত করেন। আমাদের মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী প্রদানকারী মহামানব। এই বিষয়টি উপলব্ধি করে ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর সর্বপ্রথম ১৯৯৪ সালে তাঁর ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানকে সংবর্ধনা প্রদান করে। একটানা ৬ বছর তিনি তাঁর ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে সংবর্ধনা কার্যক্রম চালিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০০১ সাল থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে দরবার শরীফ থেকে আশেকে রাসুল মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের উদ্যোগে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানকে সংববর্ধনা দেওয়া হতো। মূলত মোহাম্মদী ইসলামের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করার জন্য তিনি নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের শুভ জন্মদিন দেশ ও বিদেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও মহাধুমধামের সাথে উদ্যাপনের জন্য তিনি নানা ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। তাঁর সম্পাদনায় ২০০৭ সাল থেকে অদ্যবধি সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘সূফী সম্রাট’ নামক স্মরণিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এই স্মরণিকায় বাংলাদেশের সম্মানিত বিচারপতিগণ, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শুভেচ্ছা বাণী দিয়ে থাকেন। ‘সূফী সম্রাট’ স্মরণিকাটি একটি আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন স্মরণিকা হিসেবে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।


ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর একজন মানবিক মুল্যবোাধসম্পন্ন মহামানব। তিনি মানবতার মূর্ত প্রতীক। আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রাখতে তিনি ভালোবাসেন। তিনি প্রতিবছর নিজ পৃষ্ঠপোষকতায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করে থাকেন। কোভিড-১৯ মহামারিকালে তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করে অভাবী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। মানবিক মূল্যবোধের চেতনায় তিনি সর্বদা উজ্জীবিত থাকেন। অসহায় ও দুঃখী মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল তিনি।
ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুরের চিন্তা-চেতনা সর্বদা বাবা দেওয়ানবাগীকে নিয়ে বিভোড় থাকে। ২০১১ সালে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানকে নিয়ে তাঁর তোলা দুর্লভ ছবি মোবারক নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে চযড়ঃড় ঊীরনরঃরড়হ-এর আয়োজন করেন, যা ছিল বিশ্বের ইতিহাসে কোনো মহান অলী-আল্লাহ্কে নিয়ে প্রথম চিত্র প্রদর্শনী। এই চিত্র প্রদর্শনী সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নিকট বেশ প্রশংসিত হয়। বাবা দেওয়ানবাগীর সুমহান শিক্ষা ও আদর্শ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ছাত্রাবস্থায় তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় সফর করেন। এখানেও তিনি সফল হন। তাঁর প্রচেষ্টায় মোহাম্মদী ইসলামের তালিমের কেন্দ্রবিন্দু খানকাহ শরীফ ও জাকের মজলিসের সংখ্যা পূর্বাপেক্ষা বৃদ্ধি পায়। বহির্বিশ্বে মোহাম্মদী ইসলামের জাগরণ আনার লক্ষ্যে তিনি আন্তর্জাতিক সফর শুরু করেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মোহাম্মদী ইসলামের নবজাগরণ সূচিত হয়। বাবা দেওয়ানবাগীর আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে তিনি ৩০টির বেশি দেশ সফর করেন। তিনি যে দেশেই গিয়েছেন, সেখানেই মোহাম্মদী ইসলামের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা বাংলাদেশে ছুটে আসছেন সূফী সম্রাটের আদর্শ গ্রহণের জন্য। আর এই সফলতার নেপথ্য নায়ক হলেন ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর।


মহান মোর্শেদের অপার দয়ায় তাঁর ৯ বছর বয়স থেকে শুরু করে বর্তমান ৩৬ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ দীর্ঘ ২৭ বছর তাঁকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। যতই দেখেছি ততই মুগ্ধ হয়েছি। ধর্মীয় চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে তিনি তাঁর ব্যক্তিত্বকে করেছেন আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর। তাঁর এই সুবিশাল ব্যক্তিত্ব ও অসাধারণ চারিত্রিক মাধুর্যের গুণাবলি তাঁকে মোর্শেদ প্রেমিকদের হৃদয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। তাঁর প্রতি সকলের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অকৃত্রিম, যা হৃদয় থেকে উৎসারিত। এর প্রমাণ পাওয়া যায়, যখন তিনি আশেকে রাসুলদেরকে মহান মোর্শেদের প্রেমের বাগানের মালি হওয়ার জন্য ডাক দেন, তখন সেই প্রেমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মোর্শেদ প্রেমিকেরা মাতোয়ারা হয়ে ছুটে আসেন মহান মোর্শেদের কদম মোবারকে। তাঁর এই আহ্বান আশেক ও মাশুকের মাঝে প্রেমের জোয়ার বইয়ে দেয়। পরম প্রেমাস্পদকে পাওয়ার তীব্র বাসনা সৃষ্টি হয় মোর্শেদ প্রেমিকদের মাঝে।


যখন তিনি বাবা দেওয়ানবাগীর প্রতি ভালোবাসার ডাক দিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন, সেসময় অবারিত ফায়েজের ফল্গুধারা বয়ে যায় মোর্শেদ প্রেমিকদের হৃদয়ে। সেই ফায়েজ অবগাহন করে আশেকের সকল পাপ পঙ্কিলতা দূর হয়ে যায় এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন হৃদয়ে আলোকবর্তিকা প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে। তাঁর প্রেমময় হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য মোর্শেদের প্রতি মুরিদদের সুপ্ত ভালোবাসাকে চির জাগ্রত করে তোলে। সেই ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মুরিদ নিজের জীবনের চেয়েও মোর্শেদকে ভালোবাসার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হন। মোর্শেদকে পাওয়ার তীব্র ব্যাকুলতায় মুরিদ দুই চোখের অশ্রু অঝোর ধারায় ফেলে নিজের তপ্ত হৃদয়কে শীতল করে তোলেন। সত্যিই ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর জগতের বুকে এসেছেন মোর্শেদের প্রেমের বাগানে আশেকের ফুল ফোটাতে, যেই ফুলের সৌরভে মুখরিত হয়ে উঠছে মোহাম্মদী ইসলাম, ধন্য হচ্ছে মানব জীবন।
ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর আধ্যাত্ম্য জগতের এক প্রেমময় মহান সাধক। তাঁর প্রতিটি বাণী আশেকের মাঝে মাশুকের প্রেম বিলিয়ে দিচ্ছে। এই প্রেম চিরন্তন ও শাশ্বত। তাঁর পবিত্র মুখ থেকে নিঃসৃত বাণীই সকল ফেতনা-ফ্যাসাদকে দূরীভূত করে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথকে সুস্পষ্ট করে দিয়েছে। যারা তাঁর বাণীর মর্মার্থকে নিজ হৃদয়ে ধারণ করতে পারবে, তারাই সুপথগামী, অর্থাৎ তারাই সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে থাকবে।


মূলত ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুরকে নিয়ে কোনো কিছু লেখার যোগ্যতা আমার নেই। দীর্ঘ ২৭টি বছর তাঁকে যেমনটি দেখেছি, সেই পর্যবেক্ষণটি উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি মাত্র। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান সর্বদা এটি যে, কীভাবে বাবা দেওয়ানবাগীর আদর্শকে বিশ্বময় প্রচার করা যায়? শিক্ষা জীবন অত্যন্ত সফলতার সাথে সুসম্পন্ন করার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। অতঃপর সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজনের সুমহান শিক্ষা, আদর্শ, সংস্কার, ধর্মীয় ও মানবতাবাদী দর্শন ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালান। এক্ষেত্রেও তিনি সফল হন। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান প্রদত্ত মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফায় বর্ণিত লতিফায়ে ক্বালব, রূহ, ছের-সহ ১৩টি সবকের বিস্তারিত বিরবণ পড়ছেন। তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের এলমে তাসাউফ জগতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন- মোরাকাবা, ফায়েজ, কাশফ্ ইত্যাদি সরাসরি শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তাঁর এই প্রচেষ্টায় অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ক্বালবি বিদ্যা সম্পর্কে ধারণা লাভ করছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও আদর্শে মুগ্ধ হয়ে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের আদর্শ গ্রহণ করেছেন। তিনি স্বীয় যোগ্যতায় প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, অতঃপর সহযোগী অধ্যাপক এবং সর্বশেষ তিনি অধ্যাপক পদোন্নতি লাভ করেন।
ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুরের অন্যতম গুণ হলো তিনি সহজেই সর্বস্তরের মানুষের সাথে মিশতে পারেন। একবার তাঁর সাথে যে কথা বলে, সে তাঁর ভক্ত হয়ে যায়। আমাদের আরামবাগ-ফকিরেরপুল এলাকার অনেক এলাকাবাসী যারা দরবারের সাথে সংশ্লিষ্ট নন, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুরকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। মূলত তিনি এটি অর্জন করেছেন তাঁর স্বীয় অসাধারণ গুণাবলির মাধ্যমে। মানুষের প্রতি দরদ ও ভালোবাসা জাকের ও বেজাকের উভয় পক্ষের নিকট তাঁকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।


একটি বিষয় উপস্থাপন করতেই হচ্ছে, তা হলো- কোনো মোর্শেদ প্রেমিক যখন বিপদের সম্মুখীন হন, আর এই সংবাদটি যদি ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুরের নিকট পৌঁছায়, তখন তিনি অস্থির হয়ে ওঠেন তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য। দয়াল বাবাজানের জীবদ্দশায় নিজেই ছুটে যেতেন দয়াল বাবাজানের নিকট বলার জন্য। এমন অসংখ্য ঘটনা আমার চোখের সামনেই ঘটেছে, আমি এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী। শুধু তাই নয়, কোনো মোর্শেদ প্রেমিক ইন্তেকাল করলে আল্লাহ্র নিকট সুপারিশ করে থাকেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ করছি যে, ২০০৮ সালে আমার এক নিকটাত্মীয় মারা যায়, সেসময় ড. মেজো হুজুর মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারের জন্য দেশের বাইরে ছিলেন। এই সংবাদ শুনে তিনি তৎক্ষণাৎ বাংলাদেশে ফোন করে দয়াল বাবাজানের নিকট তার রূহের যেন মুক্তি হয়, এজন্য দয়া কামনা করেন। এমনই মানব দরদি ড. মেজো হুজুর। তিনি মোর্শেদ প্রেমিকদের আস্থা, বিশ্বস্ততা ও ভালোবাসার এক মূর্ত প্রতীক। তাঁর কাছে মন খুলে সব কিছু বলা যায়। কেননা তিনি মোর্শেদ প্রেমিকদেরকে ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। তিনি মোর্শেদের দরবারে মুরিদকে গোলামিতে সম্পৃক্ত করতে এমন প্রেরণাদায়ক বক্তব্য প্রদান করেন, যা শুনে মুরিদ হৃদয় উজার করে গোলামিতে নিয়োজিত হন। মুরিদের উদ্দেশ্যে তাঁর স্নেহমাখা আলোচনা সকল আমিত্ব ও অহংকারকে বিসর্জন দিয়ে মোর্শেদের দরবারে নিজেকে সঁপে দেওয়ার জন্য প্রেরণা জোগায়। সত্যিই অতুলনীয় বিশাল হৃদয়ের অধিকারী এক মহামানব ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর। তাঁকে জানাই সালাম ও কদমবুসি।


আজ আমার মনে পড়ছে আমি যখন ২০০২-২০০৬ সাল পর্যন্ত বাবে রহমত ৫ম তলায় থাকতাম, সেসময় ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর আমাকে-সহ অনেক আশেকে রাসুল ভাইকে নিজেই মোরাকাবার তালিম দিতেন। প্রতিদিন রাতে তিনি আমাদেরকে নিয়ে মোরাকাবায় বসতেন। তাঁর নিকট থেকে মোরাকাবার তালিম গ্রহণ করে বহু আশেকে রাসুল মোরাকাবার প্রকৃত স্বাদ উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। তিনি সর্বদা বলেন যে, সাধনা ও গোলামি এই দুটির সংমিশ্রণই মুরিদকে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। তাই তিনি সাধনা রিয়াজতের প্রতি সর্বাপেক্ষা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর ইতোমধ্যে তাসাউফ জগতের একজন সুলেখক হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ছাত্রাবস্থায় তাঁর লেখা ‘মোর্শেদের দরবারে মুরীদের করণীয়’ নামক অনবদ্য কিতাবটি তরিকত জগতের এক মাইল ফলক হয়ে আছে। অনেক ইসলামিক পণ্ডিত তাঁর এই কিতাবটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। ধর্মের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাঁর লেখা প্রবন্ধগুলো মোর্শেদ প্রেমিকদের আত্মার খোরাক জোগায়। সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত তাঁর প্রবন্ধগুলো এত সুখপাঠ্য যে, পাঠকদের বারবার পড়তে বাধ্য করে।


২০১৯ সালে একদল বিপথগামী যখন দরবার শরীফে ফেৎনা করার অপপ্রচেষ্টা চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর শক্ত হাতে এর প্রতিরোধ করেন। বাবা দেওয়ানবাগীর অপার দয়া নিয়ে তিনি বিপথগামীদের প্রকৃত মুখোশ উন্মোচন করে দেন। মহান মোর্শেদের আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য সেসময় তাঁর অসীম সাহসিকতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিল সকল প্রশংসার ঊর্ধ্বে। তাঁর সময়োপযোগী ভূমিকা মোহাম্মদী ইসলামের স্বর্ণালি অগ্রযাত্রাকে করেছে আরো গতিশীল ও বেগবান। মহান মোর্শেদের আদর্শ রক্ষার ব্যাপারে তিনি অকুতোভয় বীর সেনানী। শত বাধা বিপত্তি ও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি বাবা দেওয়ানবাগীর সুমহান শিক্ষা ও আদর্শ প্রচারে বদ্ধ পরিকর। তিনি হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে প্রস্তুত, কিন্তু বাবা দেওয়ানবাগীর ৩৫ বছরের পরিশ্রমের মোহাম্মদী ইসলামকে আবারও কারবালার ঘটনার মতো হতে দিবেন না। তাঁর এই প্রত্যয় দীপ্ত মনোভাব মোর্শেদ প্রেমিকদের মনোবলকেও বৃদ্ধি করছে বহুগুণে। লক্ষ লক্ষ মোর্শেদ প্রেমিক দু’হাত তুলে তার সম্মুখে দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, নিজেদের জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা বাবা দেওয়ানবাগীর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করেই বেঁচে থাকবেন; কোনো বিপথগামীদের তারা প্রশ্রয় দিবেন না। ড. মেজো হুজুরের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে মুরিদের ভিতরের এই চেতনাকে জাগিয়ে তুলতে। আর লক্ষ লক্ষ মোর্শেদ প্রেমিকের এই দীপ্ত ঘোষণায় বিপথগামীরাও বুঝতে পেরেছে যে, সত্যকে কখনোই টলানো যাবে না, সত্য চিরকালই সুন্দর, বরং মিথ্যাই ধ্বংস হবে। মূলত ড. মেজো হুজুর সত্যে অবিচল, মিথ্যায় আপসহীন আর করুণায় কুসুমের মতো কোমল।


২০২০ সালে বিশ্বময় করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরবার শরীফে আশেকে রাসুলদের না আসার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু মোহাম্মদী ইসলাম তো থেমে থাকতে পারে না। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি দেশ ও বিদেশের আশেকে রাসুলদের ধর্মচর্চা অব্যাহত রাখার জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে বেছে নেন। এই উদ্যোগ গ্রহণের ফলে আশেকে রাসুলেরা পূর্বাপেক্ষা আরো বেশি উপকৃত হন। কেননা ইতঃপূর্বে দেওয়ানবাগ শরীফের বাবে রহমতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মাহ্ফিল ও সম্মেলনে সকল আশেকে রাসুলের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতো না। এছাড়া বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন, পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে সম্মেলন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে সম্মেলন, পূর্ণিমার চাঁদের অনুষ্ঠান ও বাবা দেওয়ানবাগীর শুভ জন্মদিনের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র পুরুষ আশেকে রাসুলেরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আশেকে রাসুল ভাই ও বোনদের পক্ষেও বাংলাদেশে এসে দরবার শরীফের সকল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ হয় না। কিন্তু জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দরবারের অনুষ্ঠানগুলো উদ্যাপিত হওয়ার ফলে দেশ ও বিদেশের সকল আশেকে রাসুল ভাই-বোনের অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ হচ্ছে। এই জন্য ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুরকে জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ।
ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুরের উদ্যোগ গ্রহণের ফলে করোনাকালে মোহাম্মদী ইসলামের প্রচার ও প্রসার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত করোনা পরিস্থিতি মোহাম্মদী ইসলামের অগ্রযাত্রাকে কোনোভাবেই ব্যাহত করতে পারেনি, বরং বাবা দেওয়ানবাগীর মুরিদ সংখ্যা বৃদ্ধির হার পূর্বাপেক্ষা বেড়েছে। করোনাকাল থেকে ড. মেজো হুজুর মাসিক আত্মার বাণী ও সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ অনলাইনে প্রকাশ করছেন। ফলে বিদেশের আশেকে রাসুল ভাই ও বোনদের দরবার শরীফ থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকা দুটি পড়ার সুযোগ হচ্ছে।


হৃদয়ে পাহাড়সম দুঃখ নিয়ে লিখতে হচ্ছে আমাদের মহান মোর্শেদ মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান আমাদের সকলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে ২৮শে ডিসেম্বর, ২০২০ইং সোমবার ওফাত লাভ করেন। ওফাতের পূর্বে তিনি সঠিকভাবে মোহাম্মদী ইসলাম পরিচালনার জন্য ২৭শে ডিসেম্বর, ২০২০ইং রবিবার উপস্থিত ৪ পুত্র, ২ কন্যা, তাঁর স্ত্রী, ২ পুত্রবধূ ও খাদেমদের সম্মুখে কতিপয় নির্দেশনামূলক অছিয়ত করেন। তাঁর সর্বশেষ অছিয়তনামায় তিনি মেজো সাহেবজাদা ইমাম প্রফেসর ড. আরসাম কুদরত-এ-খোদা (মা. আ.) হুজুর কেব্লাকে মোহাম্মদী ইসলাম পরিচালনার নেতৃত্ব দেওয়ার সুমহান দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং ৩ সাহেবজাদা ২ সাহেবজাদিকে ড. মেজো হুজুরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন। দয়াল বাবাজানের ওফাতের পর তাঁর নামাজে জানাজার পূর্বে কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. মঞ্জুর-এ-খোদা (মা. আ.) হুজুর পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত লক্ষ লক্ষ আশেকে রাসুলের উদ্দেশে অছিয়তটি পাঠ করে শোনান। অতঃপর বড়ো সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. নূর-এ-খোদা আল আজহারী (মা. আ.), সেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. ফজল-এ-খোদা (মা. আ.) ও ড. ছোটো সাহেজাদা হুজুর তাঁদের বক্তব্যে বলেন যে, তাঁরা অছিয়তনামাটি পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং মোহাম্মদী ইসলাম সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁরা ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুরকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন।
অছিয়ত সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মহিমান্বিত আল্লাহ্ বলেন, “যদি অছিয়ত শোনার পর কেউ তাতে কোনো রকম পরিবর্তন করে, তবে যারা পরিবর্তন করবে তাদের উপর এর পাপ বর্তাবে। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (সূরা আল বাকারাহ ২: আয়াত ১৮১) হযরত সুদ্দী (রা.) হতে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণী- “যদি অছিয়ত শোনার পর কেউ তাতে কোনো রকম পরিবর্তন করে, তবে যারা পরিবর্তন করবে তাদের উপর এর পাপ বর্তাবে। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” বর্ণনাকারী বলেন, যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির কল্যাণজনক অছিয়ত পরিবর্তন করবে এ পরিবর্তনের পাপ তার উপর বর্তাবে। কেননা সে অছিয়ত পরিবর্তন করে জুলুম করেছে। (তাফসীরে তাবারী ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২২) সুতরাং মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের অসিলায় আল্লাহ্র নিকট ফরিয়াদ তিনি যেন আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় বন্ধুর সর্বশেষ অছিয়তনামাটি যথাযথভাবে পালন করার তৌফিক দান করুন।


অছিয়তনামাটি মোহাম্মদী ইসলামের মূল রূপ রেখা, এটিকে কেন্দ্র করেই মোহাম্মদী ইসলাম কেয়ামত পর্যন্ত এগিয়ে যাবে। আমাদের সকলের কর্তব্য হবে যে, মোহাম্মদী ইসলামের সুমহান শিক্ষা ও আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বপ্রদানকারী মহামানব, দেওয়ানবাগ শরীফের পরিচালক, সমন্বয়ক ও সমস্যার ফয়সালাকারী ইমাম প্রফেসর ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর কেব্লার সাথে থেকে তাঁর নির্দেশনানুযায়ী ধর্ম পালন করে সঠিক পথে পরিচালিত হওয়া। কারণ তাঁর নির্দেশিত পথই সিরাতুল মোস্তাকিমের পথ।
মোহাম্মদী ইসলামকে রক্ষার জন্য এবং সকল আশেকে রাসুলকে বাবা দেওয়ানবাগীর আদর্শে আদর্শবান করার লক্ষ্যে ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর যে অনবদ্য ভূমিকা রাখছেন, এজন্য সকল মোর্শেদ প্রেমিকের পক্ষ থেকে তাঁর কদম মোবারকে জানাই লক্ষ কোটি শোকরিয়া। তিনি সময়ের চেয়ে অনেক বেশি অগ্রগামী। হে ড. মেজো হুজুর! মহান মোর্শেদ দয়া করে যে প্রশংসা ও উচ্চ মর্যাদার আসনে আপনাকে অধিষ্ঠিত করেছেন, সেই তুলনায় আমার লেখনীর ভাষা অনেক দুর্বল। আপনার শান-মান শব্দ ভান্ডার দিয়ে অলংকৃত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আপনার মর্যাদা শব্দ ভান্ডারের অনেক ঊর্ধ্বে, তা কেবল হৃদয়ের ভাষা দিয়েই উপলব্ধি করা যায়। এই অধম আপনার মহৎ হৃদয়ের দয়া কামনা করছি।


পরিশেষে হে মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বপ্রদানকারী মহামানব! আপনার শুভ জন্মদিনে আপনাকে জানাই অতল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আপনার নির্দেশে নিজের জীবন পরিচালিত করতে চাই। আমিন।
[লেখক: ইসলামি গবেষক; সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দি পিপলস্ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ]

Digiqole ad

সম্পর্কিত পোস্ট