হযরত রাসুল (সা.)-এর শানে ওজীহুদ্দীন আবদুর রহমান-এর দুটি কবিতা

আমার জীবন

সেই নবিজির জন্য কোরবান হোক আমার জীবন
যাঁর পবিত্র কদম মোবারকে চুমু দিয়েছে উট, আর তিনি
তার দুঃখ ও কষ্ট দূর করে দিয়েছেন।
বৃক্ষ তাঁকে সালাম করেছে
পাথর কথা বলেছে তাঁর সঙ্গে
আর শুষ্ক পত্র-পল্লব যাঁর বিরহে করেছে অসহ্য রোদন।

সেই নবিজির জন্য কোরবান হোক আমার জীবন
যাঁর রেসালাতের সূর্য উদিত হওয়ার সময় হলে
জিবরিলের কাছে আনন্দের ফেরেশতা এসে বললেন-
হে জিবরাইল , আসমান ও জমিনের সকল বাসিন্দাকে আনন্দ সংবাদ জানিয়ে দিন
জানিয়ে দিন পৃথিবী ও পৃথিবীর সকল বস্তু সৃষ্টি হওয়ার পূর্বে
যে নুর সৃষ্টি করা হয়েছে, যা ছিল রক্ষিত আর গোপন
আজ রাতে সে আমানত, সে নুরকে আমি পৌঁছে দেবো তাঁর মায়ের কাছে
এতে বিশ্ব হবে নুরানি,
যাকে আল্লাহ্ এতিম বানিয়ে নিজে লালন-পালন করবেন
আর যাঁর উত্তরাধিকারীদের করবেন অতি পবিত্র
যাঁর আগমন সংবাদে আন্দোলিত হলো আল্লাহর আরশ
কুর্সির গাম্ভীর্য বৃদ্ধি পেলো যাঁর আগমনীর খোশ খবরে
যে নুরের অসিলায় আসমানের আলো পেল পূর্ণতা
ফেরেশতাকুল গেয়ে উঠলো- ইয়া নবি সালাম আলাইকা..
সেই নবিজির জন্য কোরবান হোক আমার জীবন
যাঁর জ্যোতিতে জ্যোতির্ময় হয়ে গেল পৃথিবী ও পরিবেশ
নির্বাপিত হলো পারস্যের আগুন
আর পারস্য সম্রাটের প্রাসাদ প্রাচীর থেকে খসে পড়লো
দাম্ভিকতার চৌদ্দটি নকশী পাথর।
আসমান থেকে অবাধ্য শয়তানের প্রতি নিক্ষেপিত হলো অগ্নিবাণ।

সেই নবিজির জন্য কোরবান হোক আমার জীবন
যাঁর লালনের প্রশ্ন এলে পাখিরা বলল, এ দায়িত্ব আমরা বহন করবো
জীব-জন্তু বললো, এ সৌভাগ্য অর্জন করবো আমরা।
কিন্তু তাদের বলা হলো, থামো তোমরা-
কুদরত এ সৌভাগ্যের অধিকারী করবেন সেই মহীয়সীকে,
যাঁর নাম হালিমাতুস সাদিয়া।
আমার জীবন সেই নবিজির জন্য কোরবান হোক।

হে চির সুন্দর

হে চির সুন্দর
তোমার রূপের অতুল শোভা বর্ণনা করে এমন সাধ্য কার?
আনন্দিত হলে তোমার চেহারা হতো
চাঁদের টুকরোর মতো অনিন্দ্য সুন্দর
তুমি কথা বললে মনে হতো
বৃক্ষ থেকে মিষ্টি ফল আহরণ করছে উচ্ছল বালকেরা
তুমি হাসলে মনে হতো মুক্তো ঝরছে,
কথা বললে মনে হতো কস্তুরী বের হচ্ছে মুখ থেকে, আর
বাক্যবলি যেমন মুক্তোর মালা।

কোনো পথ দিয়ে হাঁটলে তুমি সে পথে ছড়িয়ে পড়তো
সৌরভের উন্মাতাল তরঙ্গিত জোয়ার
যাকে সহজেই সনাক্ত করা যেত কোন পথে চলেছেন মানুষের নবি,
কোনো জলসায় বসলে তুমি মৌ মৌ সুপ্রিয় সুবাস
এমন সুগন্ধিতে ভরে দিত আত্মার প্রদেশ
চলে যাওয়ার পরও বেশ কিছুদিন সেখানে
তেমনি অটুট পাওয়া যেতো তার প্রলম্বিত সুবাসের রেশ।
সাহাবিদের নিয়ে পথে বেরোলে
মনে হতো তারকাদের মেলায় পূর্ণিমার চাঁদ
যেনো নক্ষত্রের অধিক নক্ষত্র এক
যাঁর থেকে নক্ষত্ররাজি পায় আলোক বিভা।

ভাষান্তর: তাহেরা ইবনে রমিজ
কাব্যানুবাদ: আসাদ বিন হাফিজ

[হযরত আল্লামা ওজীহুদ্দীন আবদুর রহমান ইবন আলী আদ দাইবাহ আশ শায়বানী (রহ.) রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর জীবন চরিতের উপর যে অসাধারণ বর্ণনা করেছেন তারই দুটো ক্ষুদ্র অংশ এখানে পরিবেশিত হলো]

Digiqole ad

সম্পর্কিত পোস্ট