Cancel Preloader

বিশ্ব আশেকে রাসুল (স.) সম্মেলন: একটি পর্যালোচনা

ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা
দোজাহানের বাদশা রাহ্মাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর সুমহান শিক্ষা ও আদর্শের অনুসারীদের সাথে ‘আশেকে রাসুল’ শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ‘আশেক’ আরবি শব্দ, এর বাংলা অর্থ প্রেমিক। আশেকে রাসুল হলো হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রেমিক। সাধারণ অর্থে, যারা হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে গভীরভাবে ভালোবাসেন, তাদেরকে আশেকে রাসুল বলা হয়। কিন্তু তাসাউফের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় যে, যিনি হযরত রাসুল (সা.)-এর সুমহান শিক্ষা ও আদর্শ নিজ হৃদয়ে ধারণ করেছেন এবং আল্লাহ্র রাসুল (সা.)-এর আদেশ, নিষেধ, পছন্দ-অপছন্দ, নির্দেশনা, ব্যক্তি জীবনের সর্বাবস্থায় বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছেন, তিনিই মূলত আশেকে রাসুল। আশেকে রাসুলের আত্মা পরিশুদ্ধ থাকে, তাঁর ক্বালবে আল্লাহ্ জিকির থাকে এবং তিনি হুজুরি দিলে নামাজ আদায় করে থাকেন। আশেকে রাসুলগণ আধ্যাত্ম প্রেমের মহিমায় প্রজ্বলিত হয়ে নিজেদের হৃদয়কে জ্যোতির্ময় করে তোলেন। আধ্যাত্ম প্রেম হলো হযরত রাসুল (সা.) ও তাঁর আশেকের মাঝে পারস্পরিক নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। এই ভালোবাসা পৃথিবীর সকল স্বার্থের ঊর্ধ্বে। এই আধ্যাত্ম প্রেম-ভালোবাসায় যারা নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করতে পারেন, তারাই প্রকৃত আশেকে রাসুল, তারাই আলোকিত মানুষ। তাদের দ্বারাই ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়ে থাকে।


পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে হযরত রাসুল (সা.)-এর মর্যাদা
হযরত রাসুল (সা.)-এর সুমহান মর্যাদার বিষয়টি পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ্ তাঁকে মানবমণ্ডলীর সাক্ষীদাতা, সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে জগতে প্রেরণ করবেন বলেই সৃষ্টির আদিতে হযরত আদম (আ.) হতে শুরু করে পৃথিবীতে সমস্ত নবি-রাসুলকে একত্রিত করে তাঁকে স্বীকার ও সাহায্য করার নির্দেশ দেন। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, “স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ্ অঙ্গীকার নিয়েছিলেন নবিদের কাছ থেকে যে, আমি তোমাদের যা কিছু দিয়েছি কিতাব ও হিকমত এবং তোমাদের নিকট যা কিছু আছে তার সত্যায়নকারীরূপে যখন একজন রাসুল [হযরত রাসুল (সা.)] আসবেন, তখন অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ইমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। তারপর তিনি (আল্লাহ্) বললেন, তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এ বিষয়ে আমার অঙ্গীকার কবুল করলে? তাঁরা (নবি-রাসুলগণ) বলল, আমরা স্বীকার করলাম। তিনি বললেন, তাহলে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম।” (সূরা আলে ইমরান ৩: আয়াত ৮১) সুতরাং বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, হযরত রাসুল (সা.) হলেন মহান আল্লাহ্র সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু। তাঁকে কেন্দ্র করেই আল্লাহ্ তায়ালা এই বিশ্বজাহানের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। হাদিস কুদসিতে এরশাদ হয়েছে, “হে রাসুল (সা.)! যদি আপনাকে সৃষ্টি না করতাম, তবে সৃষ্টিকুলের কোনো কিছুই সৃজন করতাম না।” (তাফসীরে মাজহারী, ১০ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮০) হযরত রাসুল (সা.) বলেন, “আল্লাহ্ তায়ালা সর্বপ্রথম আমার নুরকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমার নুর থেকে সকল বস্তু সৃষ্ট।” এ প্রসঙ্গে হাদিস কুদসিতে আল্লাহ্ তায়ালা ফরমান, “আমি আমার চেহারা মোবারকের নুর দ্বারা হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে সৃষ্টি করেছি।” (সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা ১০) মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) বলেন, “হযরত রাসুল (সা.)-ই হলেন আল্লাহ্র ওয়াহেদানিয়াত ও শান-মর্যাদা প্রচারের মধ্যমণি” (মাসিক আত্মার বাণী, অক্টোবর-২০২১, পৃষ্ঠা ০৪)


সুতরাং হযরত রাসুল (সা.)-কে ভালোবাসা প্রতিটি মানুষের ইমানি দায়িত্ব এবং অত্যাবশ্যকীয় ও অপরিহার্য। মূলত মহান আল্লাহ্কে ভালোবাসতে চাইলে হযরত রাসুল (সা.)-কে ভালোবাসতে হবে, নচেৎ ইমানের পূর্ণতা আসবে না। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্ এরশাদ করেন, “হে মাহবুব (সা.)! আপনি বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহ্কে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ্ তোমাদের ভালোবাসবেন, তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দিবেন। অবশ্যই আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল ও দয়াময়।” (সূরা আলে ইমরান ৩: আয়াত ৩১)


মহান আল্লাহ্ তাঁর এই বাণী মোবারকের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আল্লাহ্কে ভালোবাসার পূর্বশর্ত হলো আল্লাহ্র শ্রেষ্ঠ বন্ধু হযরত রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করা। তাহলে আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকে দুটি পুরষ্কার পাওয়া যাবে, একটি হলো আল্লাহ্ ঐ বান্দাকে ভালোবাসবেন এবং দ্বিতীয়টি হলো বান্দার পাপসমূহকে ক্ষমা করে দিবেন। একজন ব্যক্তির ইমানদার হওয়ার প্রথম শর্ত হলো- আল্লাহ্র হাবিবকে পার্থিব জীবনের সব কিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসতে হবে। এই প্রসঙ্গে হযরত রাসুল (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি নিজের পিতা-মাতা, সন্তানসন্ততি ও অন্য সকল মানুষ অপেক্ষা আমাকে বেশি ভালো না বাসবে, সে মু’মিন হতে পারবে না।” (বোখারী শরীফ ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭ এবং মুসলিম শরীফ ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৯) হযরত রাসুল (সা.) আরো বলেন, “যে আমাকে ভালোবাসে সে জান্নাতে আমার সঙ্গে থাকবে।” (তিরমিজী শরীফের সূত্রে মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা ৩০)


হযরত রাসুল (সা.)-এর বর্ণনাকৃত উল্লিখিত হাদিস দুটি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হযরত রাসুল (সা.)-কে সর্বাপেক্ষা ভালোবাসাই মানবজীবনের পরম সার্থকতা। কারণ দয়াল রাসুলকে ভালোবাসলে তাঁর সুপারিশের যোগ্যতা অর্জিত হবে, তাঁর আনুকূল্য লাভ করা যাবে, সর্বপোরি একজন ব্যক্তি মু’মিন হতে পারবে এবং মহান আল্লাহ্র প্রিয় বান্দায় পরিণত হবে। অনেক সাহাবি হযরত রাসুল (সা.)-কে নিজেদের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবেসে নক্ষত্রের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়ে পৃথিবীতে অমর হয়ে আছেন। দেড় হাজার বছর পর আজও সেসকল সাহাবিদের নাম বর্তমান আশেকে রাসুলেরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আধ্যাত্ম প্রেম ও আত্মত্যাগের অনুপম নিদর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে দয়াল রাসুলকে সর্বাপেক্ষা বেশি ভালোবাসেন। বর্তমান বেলায়েতের যুগে দেশ ও বিদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে দয়াল রাসুল (সা.)-এর প্রতি প্রেম ও ভালোবাসা সৃষ্টির ক্ষেত্রে যে মহামানব অনবদ্য ভূমিকা পালন করে গেছেন, তিনি হলেন আমার মহান মোর্শেদ মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে তিনি এমনি একজন মহামানব, যিনি ‘বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন’ আহ্বানের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে রাসুল প্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করেছেন।

‘বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন’ আহ্বানের পটভূমি
সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান বিশ্বময় হযরত রাসুল (সা.)-এর শান্তির ধর্ম মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে ১৯৮৫ সালের ১০ই মহররম নারায়ণগঞ্জ জেলার দেওয়ানবাগে বাবে জান্নাত, দেওয়ানবাগ শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। এর পূর্বে তিনি ১৯৮৫ সালের ২৯শে মার্চ শুক্রবার তাঁর স্বীয় মোর্শেদ ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.)-এর ১ম ওফাত দিবস স্মরণে তাঁর একনিষ্ঠ ভক্ত মুরিদ সন্তান আশেকে রাসুল মো. শফিউদ্দিন সাহেবের রতন মেটাল ভবনের ছাদে ১ম ওরস শরীফের আয়োজন করেন। এর মধ্য দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মহামানব হিসেবে তিনি হযরত রাসুল (সা.)-এর ধর্ম প্রচারের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করেন। অতি অল্প সময়ে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের সুমহান শিক্ষা এবং ধর্মীয় ও মানবতাবাদী দর্শন দেশ ও বিদেশের সর্বস্তরের মানুষের নিকট বেশ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। ফলে তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করে ইনসানে কামেল হওয়ার জন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ তাঁর নিকট বাইয়াত হওয়ার জন্য ছুটে আসেন। এদিকে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান তাঁর মহান মোর্শেদ ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরি (রহ.)-এর ওফাত দিবস স্মরণে, দেওয়ানবাগ শরীফের বাৎসরিক অনুষ্ঠান ‘মহাপবিত্র ওরস মোবারক’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ৪টি মহাপবিত্র ওরস মোবারক অত্যন্ত সফলতার সাথে আয়োজন করেন। প্রথম ওরস মোবারক ব্যতীত বাকী তিনটি ওরস মোবারক নারায়ণগঞ্জের বাবে জান্নাত, দেওয়ানবাগ শরীফে অনুষ্ঠিত হয়। সেসময় দেশের বিভিন্ন শহর, বন্দর, গ্রাম প্রতিটি জায়গায় ওরস মোবারকে ব্যাপক প্রচার কার্য চালানো হয়। ফলে প্রতিটি ওরসে মুক্তিকামী মানুষের প্রচুর সমাগম হতো। সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের অমীয় বাণী মোবারক শুনে দলে দলে মানুষ তাঁকে মোর্শেদ (আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক) হিসেবে গ্রহণ করেন। দেওয়ানবাগ শরীফ প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ বছরে বাবা দেওয়ানবাগী ও দেওয়ানবাগ শরীফের নাম ও খ্যাতি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।


১৯৮৯ সালে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান দেওয়ানবাগ শরীফের বাৎসরিক অনুষ্ঠানের নাম ‘মহাপবিত্র উরস মোবারক’ পরিবর্তন করে ‘বিশ্ব সুফি সম্মেলন’ নামকরণ করেন। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর মোর্শেদ ইমাম হুজুরের ওফাত দিবস স্মরণে নয়, বরং ইমাম হুজুরের শুভ জন্মদিন স্মরণে ‘বিশ্ব সুফি সম্মেলন’ এর আহ্বান করেন। মূলত আল্লাহ্ প্রেরিত মহামানবগণের শুভ জন্মদিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অধিক। কেননা মহামানবগণ হলেন অমর। এই প্রসঙ্গে হযরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন আল্লাহ্র রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, “নিশ্চয় মহান আল্লাহ্ নবিগণের দেহ ভক্ষণ করা জমিনের জন্য হারাম করেছেন। ফলে আল্লাহ্র নবি জীবিত এবং তাঁকে রিজিক দেওয়া হয়।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা ১১৮; ই ফা. বা. কর্তৃক অনূদিত সুনানে ইবনে মাজাহ- ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৮, হাদিস নং ১৬৩৭) আল্লাহ্র রাসুল (সা.) আরও বলেন, “আল্লাহ্র নবিগণ মৃত্যুবরণ করেন না, বরং তাঁরা একঘর থেকে অন্য ঘরে স্থানান্তরিত হন মাত্র।” (তাফসীরে কাবীর ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৯৬৭) এছাড়া অলী-আল্লাহ্গণের সুমহান মর্যাদা সম্পর্কে হযরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, “আল্লাহ্র অলীগণ মৃত্যুবরণ করেন না, বরং তাঁরা একঘর থেকে অন্য ঘরে স্থানান্তরিত হন মাত্র।” (তাফসীরে কাবীর ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৮১) সুতরাং অলী-আল্লাহ্গণ যেহেতু মৃত্যুবরণ করেন না, তাই তাঁদের শুভ জন্মদিনটি যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপন করলে অত্যধিক ফজিলত লাভ করা সম্ভব। এই বিষয়টি বিবেচনাপূর্বক সুফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান তাঁর স্বীয় মোর্শেদ ইমাম হুজুরের শুভ জন্মদিনটি দীর্ঘ পরিসরে আয়োজনের লক্ষ্যে ‘বিশ্ব সুফি সম্মেলন’ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই ‘বিশ্ব সুফি সম্মেলন’ আয়োজনের পিছনে অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ছিল। এই প্রসঙ্গে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান বলেন, “মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেতে হলে আবার সমগ্র বিশ্বে তাসাউফের জোয়ার আনা প্রয়োজন। পূর্ব যুগে অলী আউলিয়ার ন্যায় তাসাউফের খানকাহভিত্তিক ধর্ম প্রচার ও কাক্সিক্ষত ফল লাভের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই আমি জগতের মুক্তিকামী মানুষের কাছে সমাজ থেকে হারিয়ে যাওয়া ইসলামের মূলমন্ত্র বা তাসাউফের আদর্শ তুলে ধরার লক্ষ্যে ‘বিশ্ব সুফি সম্মেলন’ আহ্বান করেছি, যা বেলায়েতের যুগের ইতিহাসে ইতঃপূর্বে কখনো ঘটেনি।” (সূফী সম্রাটের যুগান্তকারী ধর্মীয় সংস্কার, দ্বিতীয় খণ্ড, আধুনিক প্রকাশ, জানুয়ারি, ২০১২, পৃষ্ঠা ১৭৬) বিশ্ব সুফি সম্মেলন প্রবর্তনের মাধ্যমে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান প্রমাণ করে দিয়েছেন হযরত রাসুল (সা.)-এর শান্তির ধর্ম মোহাম্মদী ইসলামের মৌলিক শিক্ষা হচ্ছে এলমে তাসাউফ বা সুফিবাদ, যা আল্লাহ্কে জানার বিজ্ঞান। এই সুফিবাদ শিক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ্র রাসুল (সা.) বর্বর আরব জাতিকে আদর্শ চরিত্রবানে পরিণত করে পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট জাতির মর্যাদায় উন্নীত করেছিলেন। এছাড়া মুসলিম সমাজে প্রচলিত ধারণা ছিল, এলমে তাসাউফের সাধনা করে ‘সুফি’ হবার উদ্দেশ্যে মানুষকে সংসার ত্যাগী হতে হবে। সে ভ্রান্ত ধারণার ফলে সমাজ থেকে এলমে তাসাউফ বিলুপ্ত হবার উপক্রম হয়েছিল। সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান রাজধানীর বুকে ‘বিশ্ব সুফি সম্মেলন’ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে এরূপ বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন যে, সমাজে অবস্থান করেই মানুষ অলী-আল্লাহ্দের নির্দেশ অনুসারে ধর্ম পালন করে মহান আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করতে পারে। এই বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য তিনি ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের বাবে জান্নাত, দেওয়ানবাগ শরীফে ৪টি ‘বিশ্ব সুফি সম্মেলন’ এবং ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল বাবে রহমত, দেওয়ানবাগ শরীফে ৫টি বিশ্ব সুফি সম্মেলনের আয়োজন করেন। সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের আহ্বানে ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল সর্বমোট ৯টি বিশ্ব সুফি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


বিশ্ব সূফি সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে সুফিবাদ সর্ম্পকে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণার অবসানের পর সুফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান সিদ্ধান্ত নেন মহান আল্লাহ্র সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রকৃত স্বরূপ জগদ্বাসীর নিকট তুলে ধরবেন। এই লক্ষ্যে তিনি ‘বিশ্ব সুফি সম্মেলন’-এর পরিবর্তে ১৯৯৭ সালের ১৮ই ডিসেম্বর মুসলিম জাতির ইতিহাসে সর্বপ্রথম ‘বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন’-এর আহ্বান করেন। উল্লেখ্য যে, বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন অনুষ্ঠানটিও সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান তাঁর স্বীয় মোর্শেদ ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরি (রহ.)-এর শুভ জন্মদিন স্মরণে আয়োজন করেন এবং এই সম্মেলনকে দেওয়ানবাগ শরীফের বাৎসরিক অনুষ্ঠান ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে আপন মোর্শেদের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ, অকৃত্রিম মহব্বত ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। মূলত তিনি তাঁর মুরিদ সন্তানদেরকে সেই দীক্ষা দিয়ে গেছেন, কীভাবে মোর্শেদকে ভালোবাসতে হয়।


এই সম্মেলনের মাধ্যমে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান মানুষেকে ‘আশেকে রাসুল’ হওয়ার শিক্ষা দিয়ে গেছেন এবং সেই সাথে হযরত রাসুল (সা.) সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটিয়ে দয়াল রাসুলের সুমহান মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন। সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান দীর্ঘ ২৩ বছরে (১৯৯৭-২০২০খ্রি.) যে কয়টি বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনের আয়োজন করেছেন, প্রত্যেকটি সম্মেলনে দোজাহানের বাদশা হযরত রাসুল (সা.)-এর মাহাত্ম্য উপস্থাপন করে গুরুত্বপূূর্ণ বাণী মোবারক প্রদান করেন। তাঁর অমীয় বাণী মোবারকের মাধ্যমে জগদ্বাসীর জানার সুযোগ হয়েছে যে, হযরত রাসুল (সা.) প্রবর্তিত ইসলাম মোহাম্মদী ইসলাম ‘দ্বিন ইসলাম’ নয়; হযরত রাসুল (সা.) গরিব ছিলেন না, তিনি ছিলেন আরবের সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী; হযরত রাসুল (সা.)-এর পিতা ও মাতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা মুসলমানদের ইমানি দায়িত্ব; দয়াল রাসুল (সা.) গায়েব জানতেন; হযরত রাসুল (সা.)-এর শুভ জন্ম ১২ই রবিউল আওয়াল এবং তাঁর ওফাত ১লা রবিউল আওয়াল। এছাড়া সূফী স্রমাট হুজুর কেব্লাজান সম্মেলনে আগত দেশ ও বিদেশের আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য প্রদান করে প্রমাণ করেছেন যে, আল্লাহ্র রাসুল (সা.)-এর শানে মিলাদ পাঠ করা বিদআত নয়, ফরজ; মিলাদের মাধ্যমে দরুদ পড়া এবং কিয়াম বা দাঁড়িয়ে হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা অত্যাবশ্যক; মিলাদে দয়াল রাসুল (সা.)-এর দিদার লাভ সম্ভব এবং মিলাদে আল্লাহ্র রাসুল (সা.)-কে ‘ইয়া ইমাম’ বলে সম্বোধন করা অপরিহার্য। সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের যৌক্তিক উপস্থাপনার ফলে দেশ ও বিদেশের ওলামায়ে কেরাম, ইসলামি স্কলার, গবেষক-সহ সর্বশ্রেণির মানুষের নিকট উল্লিখিত বিষয়গুলো গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং সমাদৃত হয়।


মূলত বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন দেশ ও বিদেশের আশেকে রাসুলদের মহা মিলনমেলা। এই সম্মেলনে জামে আম্বিয়া ও জামে আউলিয়া রুহানিতে উপস্থিত হয়ে থাকেন। ফলে সম্মেলনে অবারিত ফায়েজ রহমত ও বরকত বর্ষিত হয়। এই সম্মেলনে যারা অংশগ্রহণ করেন এবং সম্মেলনে বিভিন্ন বিভাগে গোলামি করেন, তাদের মধ্যে হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রতি প্রেম, মহব্বত ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয় এবং তাদের ভাগ্যও সুপরিবর্তিত হয়। সুতরাং বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এই সম্মেলনে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও আশেকে রাসুলগণ অংশগ্রহণ করে থাকেন।


আমার মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) ২০২০ সালের ২৮শে ডিসেম্বর, সোমবার ওফাত লাভ করেন। ওফাতের পুর্বে তিনি ২৭শে ডিসেম্বর, রবিবার দেওয়ানবাগ শরীফ ও মোহাম্মদী ইসলাম কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই বিষয়ে অছিয়ত করে যান। সেই অছিয়তে তিনি দয়া করে আমাকে মোহাম্মদী ইসলাম পরিচালনার জন্য নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব অপর্ণ করেন। বাবা দেওয়ানবাগী কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব আমি আমার সাধনালব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে যথাযথভাবে পালনের আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেশ ও বিদেশের আশেকে রাসুলদের একই সূতোয় গেঁথে রাখার জন্য এবং সেইসাথে তারা যেন দয়াল বাবাজানের শিক্ষা ও আদর্শের উপর কায়েম থাকতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমি আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এছাড়া আশেকে রাসুলদের বাড়িতে বাড়িতে ঘরোয়া মিলাদ মাহ্ফিলের আয়োজনের মাধ্যমে গত দেড় বছরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মোহাম্মদী ইসলামের সবক নিয়েছেন। দেশ ও বিদেশের আশেকে রাসুল ভাই ও বোনদের সার্বিক সুবিধার দিক বিবেচনা করে আমি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেওয়ানবাগ শরীফের বিভিন্ন অনুষ্ঠান করছি। ফলে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে আশেকে রাসুলেরা সহজে দরবারের অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারছেন।


আগামী ১৪ই ডিসেম্বর আমার মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের ৭৩তম শুভ জন্মদিন। দেশ ও বিদেশের আশেকে রাসুলদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে আমি দয়াল বাবাজানের শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে আগামী ২৩শে ডিসেম্বর, শুক্রবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত বাবে বরকত, দেওয়ানবাগ শরীফে ‘বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন’-এর আহ্বান করেছি। আমার আহ্বানে দেশ ও বিদেশের আশেকে রাসুলদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এই সম্মেলনের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের জন্য তারা নানা পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছেন। উল্লেখ্য যে, বাবা দেওয়ানবাগীর শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে এইবার প্রথম ‘বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে মোর্শেদ প্রেমিকেরা এই সম্মেলনকে সফল করার জন্য দিবারাত্রি পরিশ্রম করছেন। আমি সকল আশেকে রাসুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি- সম্মেলনের প্রতি তাদের আবেগ ও উচ্ছ্বাসের জন্য। মহান মোর্শেদের শুভ জন্মদিন মোর্শেদ প্রেমিকদের জন্য সর্বাপেক্ষা আনন্দের দিন। সুতরাং বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন মোর্শেদ প্রেমিকেরা অনাবিল উৎসাহ, আনন্দ নিয়ে উদ্যাপন করবেন, এই আমার বিশ্বাস। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লক্ষাধিক আশেকে রাসুল অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও অসংখ্য আশেকে রাসুল এই সম্মেলনে যোগদান করবেন। এইবারের বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনে পূর্ববর্তী অনুষ্ঠিত সকল সম্মেলন অপেক্ষা দ্বিগুণ মুক্তিকামী মানুষের সমাগম হবে বলে আমি ধারণা করছি।


এই প্রবন্ধটি লিখতে গিয়ে আমার মনে পড়ছে একদিন দয়াল বাবাজানকে আমি অত্যন্ত আদবের সাথে বললাম, “বাবাজান! আপনি আপনার মোর্শেদ ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহ.) হুজুরের শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন করে থাকেন। আপনিতো আমাদের মহান মোর্শেদ, আমরা আপনার শুভ জন্মদিনে ‘বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন করতে চাই। আমার কথা শুনে দয়াল বাবাজান মৃদ হেসে বললেন- ‘তোমার সময় তুমি বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন করিও’।” আজ সময় হয়েছে মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের নিদের্শ বাস্তবায়নের। তাই আমি বাবা দেওয়ানাবাগীর শুভ জন্মদিন মহাধুমধামের সাথে পালন করা জন্য ‘বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনের ডাক দিয়েছি। ২৩ তারিখের এই সম্মেলনে শুধুমাত্র আশেকে রাসুল ভাইয়েরা অংশগ্রহণ করবেন, তবে আশেকা রাসুল বোনেরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন।
বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন হলো বিশ্বের সকল দেশের আশেকে রাসুলদের সম্মেলন, সকল মোর্শেদ প্রেমিকদের সম্মেলন। এই সম্মেলনের প্রবর্তক হলেন আমার মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান। আজ থেকে ২৫ বছর পূর্বে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান সারা বিশ্বে আশেকে রাসুলদের জোয়ার আনার জন্য বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনের আহ্বান করেন। জগৎশ্রেষ্ঠ এই মহামানবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশ ও বিদেশের কোটি কোটি মানুষ দয়াল রাসুল (সা.)-কে ভালোবেসে তাঁর সুমহান শিক্ষা ও আদর্শকে নিজ হৃদয়ে ধারণ করে মু’মিন বান্দায় পরিণত হয়েছে। দেওয়ানবাগ শরীফ প্রতিষ্ঠার বয়স মাত্র ৩৭ বছর, অথচ এই অল্প সময়ে বাবা দেওয়ানবাগী বিশ্বময় মোহাম্মদী ইসলামের নবজাগরণ এনেছেন। এটা সম্ভব হয়েছে বাবা দেওয়ানবাগীর ধর্মীয় দর্শনের জন্য। তাঁর ধর্মীয় দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল ‘মোহাম্মদী ইসলাম’, যা হযরত রাসুল (সা.) প্রবর্তিত ইসলাম। তিনি এজিদ বিন মুয়াবিয়ার চক্রান্তে কারবালার প্রান্তরে হারিয়ে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলামকে জগতের বুকে পুনর্জীবন দিয়েছেন। তাই হযরত রাসুল (সা.) তাঁকে ১৯৮৯ সালের ৫ই এপ্রিল ‘মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী খেতাবে ভূষিত করেন। উমাইয়া ও আব্বাসিয় খেলাফতকালে এবং এর পরবর্তীতে আল্লাহ্র রাসুল (সা.)-এর ধর্মের ভিতর যত কুসংস্কার প্রবিষ্ট হয়েছিল, সুফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে সেগুলোর সংস্কার করেন। তাঁর ধর্মীয় সংস্কারের সংখ্যা শতাধিক। তন্মধ্যে বেশ কিছু সংস্কার বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয়ভাবে গৃহীত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ১৯৮৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহান আল্লাহ্র পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ‘মোজাদ্দেদ’ তথা ধর্মের সংস্কারকের সুমহান দায়িত্বটি তিনি সফলতার সাথে পালন করে বেলায়েতের যুগে ধর্মের শ্রেষ্ঠ সংস্কারক হিসেবে বিশ্বময় খ্যাতি লাভ করেন।


সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের সান্নিধ্যে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের অনুসারী নয়, বরং বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা তাঁর কাছে ছুটে আসতেন। তিনি সকল ধর্মের মানুষকেই আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দিয়ে গেছেন। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা স্ব স্ব ধর্ম থেকে তাঁর পরামর্শ মোতাবেক ধর্ম পালন করে স্রষ্টার পরিচয় লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ২রা অক্টোবর হযরত ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক ‘ধর্মের দায়িত্ব ও বেলায়েত লাভ’-এর লকবটি পাওয়ার সার্থকতা পরিলক্ষিত হয়। মহান আল্লাহ্ সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানকে ১৯৮৮ সালে ১০ই মহররম ‘যুগের ইমাম’-এর দায়িত্ব অর্পণ করেন। যুগের ইমাম প্রসঙ্গে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান বলেন, “মূলে যুগের ইমাম এমনই একটি পদ বা পদবী, এটি নবুয়তের যুগ ও নবুয়ত পরবর্তী বেলায়েতের যুগ-উভয় যুগের জন্য প্রযোজ্য। অর্থাৎ সর্বকালে সর্বযুগে আল্লাহ্র ধর্ম পরিচালনার জন্য হিদায়েতের দায়িত্বে নিয়োজিত মহামানব জগতে ছিলেন, আছেন ও থাকবেন।” (মুক্তি কোন পথে? পঞ্চম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১১৯) সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান আরো বলেন, “মহান আল্লাহ্ যাঁদেরক হিদায়েতের কাজ পরিচালনার জন্য সৃষ্টি করেন, তাঁরা মানুষকে মহাসত্য তথা আল্লাহ্র পথ যেমন দেখান, তেমনি তাঁরা ন্যায় বিচার করে অর্থাৎ ন্যায়ানুগতভাবে সমস্যার ফয়সালা করেন। আর এ সকল সুমহান ব্যক্তিবর্গই নবুয়ত পরবর্তী বেলায়েতের যুগে ‘ইমাম’ নামে মোহাম্মদী ইসলামের পতাকাবাহীরূপে দায়িত্ব পালন করেন।” (মুক্তি কোন পথে? পঞ্চম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১২০) মহান আল্লাহ্ তাঁর প্রিয় বন্ধু সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানকে সর্বশেষ লকবটি প্রদান করেন ২০০৮ সালের ১০ই অক্টোবর। এই তারিখে সর্বপ্রথম পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর নুরানিময় চেহারা মোবারকের প্রতিচ্ছবি দেখা যায় এবং অদ্যাবধি দেখা যাচ্ছে। মূলত সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ নামক প্রায় ১১ হাজার পৃষ্ঠার ৮ খণ্ড তাফসীর শরীফ প্রণয়ন করে প্রমাণ করেছেনÑ ‘মহান আল্লাহ্ নিরাকার নন, তাঁর নুরের রূপ আছে।’ তাঁর এই সুমহান কর্মে আল্লাহ্ তায়ালা খুশি ও সন্তুষ্ট হয়ে পূর্ণিমার চাঁদে তাঁকে দেখিয়ে পুরস্কৃত করেন।
বেলায়েতের যুগের শ্রেষ্ঠ এই মহামানবের ৭৩তম শুভ জন্মদিনে তাঁর পরশময় নুরানি কদম মোবারকে জানাই ভক্তিপূর্ণ সালাম ও কদমবুসি। মোর্শেদ কেব্লাজানের শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিতব্য ‘বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন’ যেন সফলভাবে আয়োজন করতে পারি, এইজন্য রাব্বুল আলামিনের দয়া কামনা করি। হে মহান রাব্বুল আলামিন! আপনার প্রিয় বন্ধুর শুভ জন্মদিন উদ্যাপন করার মতো কোনো যোগ্যতা আমাদের নেই। আপনার দয়াই কেবল দেশ ও বিদেশের লক্ষ লক্ষ আশেকে রাসুলদেরকে সাথে নিয়ে মহিমান্বিত এই অনুষ্ঠানটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করা সম্ভব হবে।
পরিশেষে- সারা বিশ্বের আশেকে রাসুলদেরকে বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনে আমার পক্ষ থেকে দাওয়াত দিচ্ছি। দয়াময় আল্লাহ্ আমার এই প্রয়াসকে কবুল করুন। আমিন।


[লেখক: মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম; পরিচালক, সমন্বয়ক ও সমস্যার ফয়সালাকারী, দেওয়ানবাগ শরীফ; প্রফেসর, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি]

সম্পর্কিত পোস্ট